Tuesday, August 10, 2010

‘নোয়াখালী ওয়েব’ এ ৫শ’র অধিক মিডিয়ার লিংক সংযুক্ত

বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকা নিয়ে অনেক লিংক সাইট থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো আপডেট থাকেনা ফলে পাঠকরা সঠিক লিংক খুঁজে পায় না। এজন্য পাঠকদের সুবিধার্থে বৃহত্তর নোয়াখালী কমিউনিটির পত্রিকা ‘নোয়াখালী ওয়েব’ এর মিডিয়া লিংক পেইজে ৫০০ এর অধিক দেশী-বিদেশী পত্র-পত্রিকা, রেডিও এবং টিভি চ্যানেল এর লিংক সংযুক্ত করা হয়েছে। নিয়মিতভাবে আপডেট হয় বলে পাঠকরা খুব সহজে এখান থেকে বাংলাদেশের যেকোন পত্র পত্রিকা রেডিও-টিভি-সংবাদ মাধ্যমের সঠিক লিংক খুব সহজে খুঁজে পাবেন। প্রথম পাতায় ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম’ এ ক্লিক করুন অথবা নোয়াখালী ওয়েব’র মিডিয়া পেইজের ঠিকানা : http://www.noakhaliweb.com.bd/media/

Tuesday, October 20, 2009

বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতিসন্তানদের একজন ভাষাসৈনিক গাজীউল হক


ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের নাম আমাদের সবার পরিচিত।তিনি একাধারে চিলেন বিপ্লবি,কবি, লেখক, গীতিকার..এবং আইনজীবি। গাজীউল হক ১৯২৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহত্তর নোয়াখালীর ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছাড়াও পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অধ্যাপক গোলাম আজমসহ অন্যদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার শহীদ জননী প্রয়াত জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিরও তিনি সক্রিয় সদস্য ছিলেন।১৯৪২ সালে তিনি প্রথম জেলে যান মাত্র ১৩ বছর বয়সে।নোয়াখালির ছাগলনাইয়ার এক সরকারি অফিসের উপর থেকে ব্রিটিশ পতাকা নামিয়ে মুসলিম লীগের পতাকা লাগানোর অপরাধে সে সময় তাঁকে জেলে যেতে হয়।ভাল ছাত্র এবং অল্প বয়সের কারনে সে যাত্রায় চাড়া পান তিনি।তাঁর বাবাও ছিলেন ব্রটিশবিরোধি আন্দোলনের সাথে জড়িত।১৯৫৬ সালে যখন তাঁর বাবা মারা যায় তখনও তিনি ছিলেন জেলে। কেবল ভাষাসৈনিক বললে তাঁর পরিচয়কে খণ্ডিত করা হয়। ভাষাসৈনিক হিসেবে গৌরবের পরিচয়বাহী এ মানুষটি ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েই তাঁর দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করেননি, পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এখানেই তাঁর মহত্ত্ব, এখানেই তাঁর সামাজিক প্রতিশ্রুতি পালনে নিষ্ঠার প্রমাণ। এ কারণেই তিনি সবার নমস্য হয়ে উঠেছেন।গাজীউল হকের সৌভাগ্য যে, ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাই তিনি পাকিস্তানের অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পেরেছিলেন। উর্দু চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার প্রেরণা পেয়েছিলেন অন্তরের তাগিদ থেকে। ওই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র তো ছিল হাজার হাজার। সবাই তো আর ১৪৪ ধারা ভাঙার সাহস করেননি। যে কজন সেই সাহস প্রকাশ করেছেন তাঁদের একজনের নাম গাজীউল হক। উর্দুর বিরুদ্ধে 'না' বলার নেতৃত্বতো আর সবাই দেননি। তা দিয়েছিলেন বলেই তিনি আজ সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। কেবল ৫২ নয়, ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ৬৪-এর সামপ্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, আশির দশকজুড়ে সৈরাচারবিরোধি আন্দোলন- সব ক্ষেত্রেই গাজীউল হকের ছিল উলে­খযোগ্য ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের কথা কে না জানে, সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। লড়াকু সৈনিক হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তিনি সম্মানিত। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এ মানুষটিকে আমাদের সময়ে দেখতে পেয়েছি, এটি পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার বলে মনে করি।পেশাগত জীবন তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।তিনি সাধারন মানুষের জন্য নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মামালা লড়তেন। কেউ টাকার অভাবে মামালা লড়তে না পারলে তিনি এগিয়ে যেতেন...রাজনীতিতে তিনি জড়িত ছিলেন।আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও ছিলেন তিনি।এছাড়া গাজীউল হক প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) এর চেয়ারম্যান ছিলেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এলএলবি ডিগ্রিও অর্জন করেন।তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, জেলের কবিতা (১৯৫৯), এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম (১৯৭১), এগিয়ে চলো (১৯৭১), বাংলাদেশ আনচেইন্ড (১৯৭১), মোহাম্মদ সুলতান (১৯৯৪), মিডিয়া ল'জ এন্ড রেগুলেশন ইন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের গণমাধ্যম আইন (১৯৯৬)।সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ তম সমাবর্তনে তাকে এবং আরেক ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনকে সন্মানসূচক ''ডক্টর অব লজ' ডিগ্রি দেওয়া হয়।এছাড়াও গাজীউল হক তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন৷ এগুলো- ১৯৭৭ সালে পান পাবনা থিয়েটার পুরস্কার৷ ১৯৭৯ সালে বগুড়া জিলা স্কুলের ১৫০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'বন্ধন'-এর পক্ষ থেকে ভাষাসৈনিক গাজীউল হককে ক্রেষ্ট উপহার দেওয়া হয়৷ ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি 'সড়ক'-এর পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধাঘ্য জানানো হয়৷ ১৯৮৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি 'কমিটি ফর ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ- নিউইর্য়ক' তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায়৷ ১৯৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলনে অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য 'বাংলাদেশ জাতীয় ব্যক্তিত্ব গবেষণা কেন্দ্র' তাঁকে রাষ্ট্রভাষা পুরস্কার পদক ও সম্মান স্মারক প্রদান করে৷ ১৯৯৭ সালে অন্নদা শংকর রায় কলকাতার পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করে৷ ১৯৯৭ সালে বছর 'বগুড়া প্রেস ক্লাব' ভাষাসৈনিকদের সংবর্ধনা দেয়৷ তাঁকেও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়৷ ১৯৯৭ সালে 'চট্টগ্রাম ইয়ুথ কয়ার' ( বইমেলা ) থেকে ৭ মার্চ তিনি ভাষাসৈনিক পদক পান৷ ১৯৯৭ সালে বগুড়ার ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাঁকে অর্পণ নামে একটি ক্রেষ্ট উপহার দেয়৷ ১৯৯৯ সালের ২৬ নভেম্বর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে জীবনব্যাপী নিষ্ঠা ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমী থেকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ অর্জন করেন৷ তিনি সিপাপ জাতীয় স্বর্ণপদক পান৷ ১৯৯৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি 'আমরা সূর্যমুখী'র পক্ষ থেকে তাঁর ৭১তম জন্মদিনে নাগরিক সম্মাননা দেওয়া হয়৷ 'কারক নাট্য সম্প্রদায়'-এর ১২ বছর পূর্তিতেও তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷ ২০০০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে গৌরবময় ভূমিকার জন্য সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট তাঁকে সকৃতজ্ঞ অভিনন্দন জানায়৷ এছাড়া ২০০০ সালে ভাষা আন্দোলনের পঞ্চাশ বৎসর পূর্তি উপলক্ষে সিলেট ভাষাসৈনিক সংবর্ধনা পরিষদ তাঁকে ভাষাসৈনিক সংবর্ধনা দেয়৷ এবছরই তিনি বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন এর উপদেষ্টা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা স্মারক পান৷ ১২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদও তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে৷ ভাষা আন্দোলনের স্থপতি সংগঠন তমদ্দুন মজলিস-এর পক্ষ থেকে মাতৃভাষা পদক পান৷ 'দি ইনস্টিটিউট অব চার্টাড এ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ' তাঁকে ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি স্বরূপ ক্রেষ্ট উপহার দেয়৷ ২০০০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ অবদানের জন্য 'আমরা সূর্যমুখী'র পক্ষ থেকে তাঁকে ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে নাগরিক সম্মাননা দেয়৷ 'মাতৃভাষা সৈনিক পরিষদ'এর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা প্রদান করা হয়৷ ২০০০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' তাঁকে 'একুশে পদক' পুরস্কারে ভূষিত করেন৷ ২০০০ সালের ১০ জুলাই পান 'বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন' পুরস্কার ৷ ২০০১ সালে ফেনী সমিতির পক্ষ থেকে তাঁকে 'ফেনীর কৃতি সন্তান' হিসেবে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷ ২০০১ সালেই একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির পক্ষ থেকে 'জাহানারা ইমাম পদক' পান৷ ২০০২ সালে 'সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট' 'ভাষা আন্দোলনের-সুবর্ণ জয়ন্তী' উপলক্ষে তাঁকে একটি ক্রেষ্ট উপহার দেয়৷ এ বছর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে৷ ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে 'বঙ্গবন্ধু পদক' পান৷ ২০০৪ সালে 'বাংলাদেশ জাতীয় ব্যক্তিত্ব গবেষণা কেন্দ্র'-এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে 'বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন-২০০৪'৷ ২০০৪ সালে পান 'শের-ই-বাংলা জাতীয় পুরস্কার' ৷ ২০০৫ সালে শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য 'মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার' পান৷ ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশন-এর ৭ম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তাঁকে ক্রেষ্ট উপহার দেয়৷ আমাদের দেশের এবং জনগনের অকৃত্তিম বন্ধু, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম এ প্রাণপুরুষকে একুশে পদক দিয়ে সরকার তাঁর ঋণ শোধের কিছুটা চেষ্টা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়ে তাঁর প্রতি যথার্থ সম্মান দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে এবং ভাষা আন্দোলনের সব সৈনিককে এরকম সম্মান জানালে আমরা খুশি হবো। উনার প্রতি রইলো অনেক অনেক শ্রদ্ধা...রইলো অনেক ভালবাসা...এবং কখোনো ভুলে যাব না এমন ওয়াদা।যতদিন বাংলার মাটিতে স্বাধীনতাপ্রেমি শেষ ব্যাক্তিটি রইবে ততদিন আমরা তোমাদের ভুলব না...

Thursday, July 2, 2009

অনলাইন পত্রিকা 'নোয়াখালী ওয়েব'র ৫ম বর্ষে পদার্পন

৫ম বর্ষে পদার্পন করল অনলাইন পত্রিকা নোয়াখালী ওয়েব। বৃহত্তর নোয়াখালীর স্থানীয় ও দেশ বিদেশে এ অঞ্চলের কমিউনিটির মানুষদের তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৫ সালের ১ জুলাই পত্রিকাটি তাদের প্রকাশনা শুরু করেছিল। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত এ্যালাক্সা র্যাংকিং অনুসারে নোয়াখালী ওয়েব বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন পত্রিকা। আঞ্চলিক ও কমিউনিটির খবরের পাশাপাশি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক খবরও গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করায় পত্রিকাটি ইতোমধ্যে সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও সফলভাবে চার বছর পূর্ণ করতে পারার জন্য পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক এর পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

নোয়াখালী ওয়েব'র ঠিকানা : http://www.noakhaliweb.com.bd/


এছাড়া ৫ম বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে ফেইসবুকে ও ইউটিউব এ নোয়াখালী ওয়েবের ঠিকানা চালু করা হয়েছে যেখানে পাঠকরা অতি সহজে তাদের মতামতসহ ভিডিও শেয়ারিং করতে পারবেন। ঠিকানাগুলো হল :


www.facebook.com/noakhaliweb
www.youtube.com/noakhaliweb


সাম্প্রতিক দৈনিক পত্রিকায় নোয়াখালী ওয়েব এর খবর

Monday, June 8, 2009

চার বছর পূর্ণ করল অনলাইন পত্রিকা 'নোয়াখালী ওয়েব'

বৃহত্তর নোয়াখালীর স্থানীয় ও দেশ বিদেশে এ অঞ্চলের কমিউনিটির মানুষদের তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৫ সালের জুন মাসে চালু হওয়া অনলাইন পত্রিকা 'নোয়াখালী ওয়েব' তাদের চতুর্থ বর্ষ পূর্ণ করল। বর্তমানে নোয়াখালী ওয়েব আঞ্চলিক ও কমিউনিটির খবরের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবরও গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করছে ফলে অনলাইন পত্রিকাটি ইতোমধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। নতুন বছরে পত্রিকাটির ব্যাপক আধুনিকায়ন হবে বলে জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তা ও সম্পাদক খালেদ সাইফুল্যাহ। পত্রিকাটির মান উন্নয়নে বৃহত্তর নোয়াখালীর সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করা হয়েছে। এর ওয়েব ঠিকানা http://www.noakhaliweb.com.bd/
মতামত জানাতে হ্যালো : ০১৯১৬৫৫৩৩৬৬, ০১৬১৬৫৫৩৩৬৬, ইমেইল : editor@noakhaliweb.com.bd


সাম্প্রতিক খবর :

দৈনিক প্রথম আলো (০৮ জুন ২০০৯)
http://www.prothom-alo.com/mcat.news.details.php?nid=MTU5NDAz&mid=MTE=

দৈনিক ইত্তেফাক (০২ জুন ২০০৯)
http://www.ittefaq.com/content/2009/06/02/news0060.htm

Sunday, October 5, 2008

নোয়াখালীর এক অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু



বৃহত্তর নোয়াখালীর মুক্তিযুদ্ধের এক অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবউদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু একাত্তরের ৬ সেপ্টেম্বর হানাদার পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নির্মম ভাবে নিহত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন স্বাধীনতাপূর্ব নোয়াখালীর গৌরবময় ক্রীড়া জগতের অন্যতম সংগঠক। এক সময় বৃহত্তর নোয়াখালীতে কচি, ছালু ও ভুলু এই তিন ভাইয়ের নাম ফুটবল সহ ক্রীড়াঙ্গনে ছিলো সুপরিচিত। তাঁদের ফুটবল দলের নাম ছিল এস্কেন্দার ব্রাদার্স। তাঁর পিতা মরহুম সেকান্দার মিয়া ছিলেন নোয়াখালীর স্বনামধন্য উকিল, জেলা উকিল বারের সভাপতি ও বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। শহীদ ভুলুর বড় ভাই মরহুম সহিদ উদ্দিন এস্কেন্দার কচি মিয়া ছিলেন অসহযোগ আন্দোলনের সময় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও নোয়াখালী পৌর সভার সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক এম,এন,এ ও এম,পি।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নোয়াখালী টাউন হল ছিলো মুক্তিযুদ্ধের কন্ট্রোল রুম। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে এখান থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রন করা হতো। শহীদ সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার দায়িত্ব পেয়ে টাউন হলেই তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন। এপ্রিলের শেষে পাক হানাদার বাহিনী এ শহর দখল করলে মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন দিকে মুক্তাঞ্চলে চলে যায়। তখন শহীদ ভুলু মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে শহরের পূর্বাঞ্চলে কাদিরপুরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি গড়ে তুলেন। তিনি ২ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর এটিএম হায়দারের অধীনে ছিলেন। সে সময় কাদিরপুরে তাঁদের পৈত্রিক বাড়ির কাছে ডা:রজনী কুমার দাসের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন সভা অনুষ্ঠিত হতো। উত্তর কাদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম ঘাঁটি । ৫ সেপ্টেম্বর সেই ঘাঁটির উপর দিয়ে একটি পাকিস্তানী ফাইটার বিমান খুব নীচু হয়ে উড়ে যায়। সে সময় মুক্তিযোদ্ধারা বিমান লক্ষ করে মেশিন গান থেকে গুলি ছুঁড়ে। এদিকে স্থানীয় রাজাকাররা গোপনে মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটির সঠিক খবরাখবর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে জানায়। আগরতলার এক তরুণ নবীন ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নোয়াখালীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন। তাঁর নাম ছিলো অমল নাগ। তিনি ক্যাপ্টেন নাগ বলে সমধিক পরিচিত ছিলেন। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে পার্শবর্তী বসুর হাটে মুক্তিযোদ্ধাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শহীদ ভুলু ও ক্যপ্টেন নাগ অন্য সহযোদ্ধাদের সাথে গভীর রাতে কাদিরপুর ক্যাম্পে ফিরে আসেন। সেই ক্যম্পের পাশে খালের মধ্যে নৌকা বেঁধে তাঁরা নৌকার মধ্যেই ঘুমিয়ে ছিলেন। ৬ সেপ্টেম্বর খুব প্রত্যুশে বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুলের পাক বাহিনীর ক্যাম্প থেকে ছয়টি নৌকা বোঝাই এক প্লাটুন পাকিস্তানী সৈন্য অতর্কিতে এসে সমগ্র এলাকা ঘিরে ফেলে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা হতচকিত হয়ে পড়েন। সহযোদ্ধারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারলেও সে সময় শহীদ ভুলু ও ক্যাপ্টেন নাগ গভীর ঘুমের মধ্যে ছিলেন। ত্বরিৎ বেগে হানাদার পাক সৈন্যরা তাঁদের নৌকা ঘিরে ফেলে। ঘুম থেকে জেগে উঠেই তাঁরা পাক সৈন্যদের সঙ্গে প্রতিরোধ যুদ্ধে লিপ্ত হন। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। পাক সৈন্যদের একটি গুলি সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলুর বাম বাহুতে এসে লাগলে তিনি মারাত্মক আহত হন। আহত অবস্থায় তিনি ও ক্যাপ্টেন নাগ পাক সৈন্যদের হাতে ধরা পড়ে যান। হানাদাররা তাঁদেরকে পার্শবর্তী স্কুলের বারান্দায় এনে হাত পিছমোড়া করে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। পাক সেনারা বারবার জানতে চায়, কে সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু। তখন সেখানে উপস্থিত দুই ঘৃন্য রাজাকার কাজী অবুবকর সিদ্দিক ও কাজী মতিউর রহমান শহীদ ভুলুকে দেখিয়ে দেয়। তখন তারা উভয়কে বেগমগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু রাজাকাররা তাঁদের দুজনকে এখানেই হত্যা করতে পিড়াপিড়ি করে। এ নিয়ে রাজাকার ও হানাদার বহিনীর অফিসারের সাথে উত্তপ্ত বাক্যও বিনিময় হয়। তখন শহীদ ভুলু বার বার জয় বাংলা বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পাক সৈন্যরা বেয়নেট দিয়ে তাঁর কণ্ঠনালী কেটে ফেলে। এরপর তাঁকে পিছন দিক থেকে পরপর তিনটি গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত হতে হায়নারা তাঁকে বেয়োনেট দিয়ে বার বার খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করে। সে অবস্থায় তাঁর লাশ সেখানে পড়ে থাকে। শহীদ ভুলুর লাশ সেখানে ফেলে রেখেই পাক বাহিনীরা ক্যাপ্টেন নাগকে নিয়ে বেগমগঞ্জ ক্যাম্পে ফিরে যায়। ক্যাম্পে ক্যাপ্টেন নাগের উপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। দেশ স্বাধীন হলে অর্ধমৃত অবস্থায় তিনি মুক্তি পান।

হানাদার বহিনীরা কাদির পুর ছেড়ে চলে গেলে মুক্তি বাহিনীরা এসে শহীদ ভুলুর লাশ উদ্ধার করে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁর বাড়িতে এনে তাঁর বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করে। এর কয়দিন পর সেনবাগে রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের এক যুদ্ধে কজন রাজাকার সহ শহীদ ভুলুর হত্যার সহযোগি দুই রাজাকার কাজী আবু বকর সিদ্দিক ও কাজী মতিউর রহমান মারা পড়ে।

সাহাব উদ্দিন ভুলু শহীদ হওয়ার সময় তাঁর তিন ছেলে ছিলো একেবারেই শিশু। তখন বড় ছেলে জুয়েল চার বছর, মেঝো ছেলে সোহেল আড়াই বছর ও ছোট ছেলে দীপেলের বয়স ছিলো মাত্র ছয়মাস। তাদের মাইজদী শহরের লক্ষীণারায়ন পুরের বাড়িটি ছিলো রাজনীতির নানান স্মৃতিতে ঘেরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানী, সোহরাওয়ার্দী, পাকিস্তানের বিরোদীদলের নেতা আজম খাঁন প্রমুখ দেশ বরেণ্য নেতাদের পদচারনায় এলাকাটি ছিলো সদা মুখরিত। সে স্মৃতিময় বাড়িটিও পাক হানাদারেরা পুড়িয়ে দেয়। সেই থেকে নানান ঘাত প্রতিঘাতে আত্মীয়স্বজন পাড়াপড়শীদের সহযোগীতায় তারা আজ মানুষ হয়েছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু নোয়াখালীতে এসে শহীদ ভুলুর বৃদ্ধা মা আজমুদা খাতুনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, আপনার এক ছেলে যুদ্ধে হারিয়ে গেলেও আমিতো আপনার আর এক ছেলে আছি। পঁচাত্তর পরবর্তীতে এই পরিবারের উপর সরকারি ভাবে নেমে এসেছিলো বঞ্চনা আর অবহেলা। সবচেয়ে আশ্চর্য ও গ্লানিকর দিক হলো, যে দুই রাজাকার শহীদ ভুলকে হত্যার সহযোগীতা করেছিলো কাজী আবু বকর সিদ্দিক ও কাজী মতিউর রহমান দুজনেই একসাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে অত্যন্ত ঘৃনিত ভাবে মৃত্যু বরণ করলেও দীর্ঘদিন থেকে শহীদ পরিবার হিসাবে তাদের পোষ্যরা ভাতা পেয়ে আসছিলো। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র তাদের নামে এ বরাদ্ধ এতো দিন দিয়ে আসছিলো বলে শহীদ ভুলু পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

নোয়াখালীর ক্রীড়া জগতের এক সময়ের এ অনন্য সংগঠকের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ মুক্তিযুদ্ধে তাঁর মহান অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলাবাসি এ এলাকার একমাত্র ষ্টেডিয়ামের নাম করণ করে,শহীদ ভুলু ষ্টেডিয়াম। এটি এখন আন্তর্জাতিক মানের ষ্টেডিয়াম হিসাবে গড়ে উঠছে।

নোয়াখালীবাসি এই অকুতভয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।


লেখক : মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ
সহযোগী সম্পাদক, নোয়াখাখালী ওয়েব

অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অবারিত দ্বার নোয়াখালী

অতি প্রাচীন ইতিহাস সম্বৃদ্ধ নোয়াখালী জেলা। ১৯২১ থেকে ২০০৮ সাল। দীর্ঘ ১৮৭ বছর ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় এ জেলার সন্তানদের বীরোচিত ত্যাগ জাতিকে করেছে মহিমান্বিত, জেলাবাসী হয়েছে গর্বিত। প্রকৃতির অপার রূপ আর সম্পদ সম্বৃদ্ধ এ জেলার ফসলের ভান্ডার উদ্বৃত্ব। কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, পশু, মৎস্য সম্পদ, তাঁত বস্ত্র, লবন চাষ (বর্তমানে বিলুপ্ত) রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ইতিহাসও সুদীর্ঘ কালের। কালের পরিক্রমায় প্রকৃতির খেয়ালে বহুবার নোয়াখালীর উপকূল ভেঙ্গেছে আবার গড়েছে। ভাঙ্গা গড়ার এ চোরাবালির মাঝে মানুষ নিঃস্বও হয়েছে আবার সম্বৃদ্ধ হয়েছে।

নোয়াখালীর ৭০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কৃষিজীবি। প্রকৃতিকে নির্ভর করে গ্রামের বনেদীগৃহস্থ পরিবার ছিল স্বয়ম্ভর। তবে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সুযোগের অভাবে কৃষিতে এসেছে সংকট। সে সংকট অব্যাহত। গত দু'দশক ধরে নতুন সর্বনাশ জলাবদ্ধতা জেলার কৃষি ব্যবস্থাকে কেবল ধ্বংস করেনি, বিরাণ করেছে গ্রামীন অর্থনীতিকে। বাড়িয়েছে বেকারত্ব। সম্পন্ন কৃষক ও কৃষি পরিবার হয়েছে সর্বশান্ত। পেশা বদল করে অনেকে কৃষি বিমুখ হওয়ায় কৃষিতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনবল সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার পরবর্তী সরকার ব্যবস্থার সকল পর্যায়ে নোয়াখালীর বিদগ্ধ সন্তানদের উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকলেও কৃষি নির্ভর জেলার কৃষিখাতে সংকট সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেনি। সাবেক ৬ উপজেলা এখন প্রশাসনিক প্রয়োজনে ৯ উপজেলায় রূপান্তরিত। তাতে মানুষের উন্নয়ন হবে এ আশাবাদ করা যেতে পারে। কিন্তু নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও হাতিয়া উপজেলা ছাড়া বাকী ৭ উপজেলা বর্ষা মৌসুম ও মৌসুম পরবর্তী ২ মাস জলাবদ্ধ থাকে কৃষি জমি। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা কৃষির যে বিপর্যয় এনেছে তা থেকে উত্তোরনের কোন সঠিক পরিকল্পনা নেই। রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের আগুনের লেলিহান শিখার মত দ্রব্য মূল্য যখন মানুষকে সর্বাঙ্গে পুড়তে শুরু করেছে তখন আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার টনক নড়েছে। গত দু'দশকে কৃষি আর কৃষকের প্রতি যে অবহেলা তার প্রতিশোধ নিচ্ছে দ্রব্য মূল্য। সুজলা, সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশের কৃষিকে কার স্বার্থে বিদেশী বাজারে পরিণত করে এর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করেছে তার মূল্যয়ান করা সময়ের দাবী।

নোয়াখালীর কৃষির বিশাল সম্ভাবনা হলেও প্রায় ৬৫ হাজার একর জমি এখনো সারা বছর পতিত থাকে। একফসলী জমির পরিমাণ ৪৭ হাজার একর। কৃষি জমির বিশাল ভান্ডার উপকূল জুড়ে। সেখানে সীমিত সুযোগ নিশ্চিত হলে ৮০হাজার একর জমিকে ত্রি-ফসলী করা সম্ভব। অথব জলাবদ্ধতা, সেচের অভাব, সার সংকট, কীটনাশক সংকট ছাড়াও ভেজাল বীজ, সার, ঔষধ কৃষি এবং কৃষকের অস্তিত্বকে হুমকিতে ফেলেছে।
এ জেলায় মৌসুমী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশী। পরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা সেভাবে গড়ে উঠেনি। গত তিন দশকে উন্নয়নের জোয়ারে পুল, কালভার্ট, রাস্তা অবকাঠামতে হয়নি তা বলা যাবে না, তবে মূল বিষয় খাল সংস্কার, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধার বিষয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবী পুরোপুরি উপেতি হয়েছে। মেঘনা আর ডাকাতিয়া নদীর সাথে সংযোগে খালগুলো মরে যাচ্ছে, বেদখল হয়েছে প্রভাবশালীদের দ্বারা অথচ প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্টরা এগুলোকে আমলে নেয়নি। বরং কতিপয় ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার একর অনাবাদি জমি পতিত পড়ে রয়েছে। সেচ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর ৭০ হাজার একর জমিতে ফসল বুনন হয় না। হাতিয়া ভাঙছে গত তিন দশকের বেশী সময় ধরে, দেখার কেউ নেই। কতিপয় রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অসাধু সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও প্রভাবশালীদের মদদে ৫০ হাজার হেক্টরের বনাঞ্চল উজাড় হয়েছে। ঝড় জলোচ্ছাসে উপকূলের কতিপয় অঞ্চলে কয়েক লাখ মানুষ এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। তাদের থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। গরু, মহিষ, ভেড়া তথা পশু সম্পদ সম্বৃদ্ধ উপকূলে এখন পশুর অভাব। কথিত ভূমিহীন ও মৎস্য চাষীরা খাস জমি দখল করে ফেলছে। অথচ পশুদের জন্য চারণভূমি নেই। সরকারের পরিকল্পিত উপকূল উন্নয়নের ফাইলে উই পোকা ধরেছে। এ কারণে উপকূলের কথিত উন্নয়ন এখন শীতাতপ হলঘরে, সেমিনার, টকশোতে সীমাবদ্ধ।
উপকূলের কৃষক নতুন ফসলে উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছে। গত ১০ বছরে উপকূলীয় এলাকায় তরমুজ, ঢেঁড়স, সয়াবিন, বাদাম, ভূট্টা ও গমের চাষ হচ্ছে। সবজি চাষে আগ্রহী কৃষক আগাম শীতের সবজি বাজারে নিয়ে আসছে। অথচ তাদের জন্য প্রযুক্তি, বীজ, সার, প্রয়োজনীয় তথ্য, সেচ ব্যবস্থা ইত্যাদি সুযোগ খুবই সীমিত। সংশ্লিষ্ট বিভাগে লোকবল সংকটও রয়েছে। প্রান্তিক চাষীর জমি নেই। অথচ তার উদ্যোগ ও মেধা আছে। তা কাজে লাগানোর নিশ্চয়তা চায়। চায় উৎপাদিত পণ্যের মালিকানা ও খাস ভূমি।

সরকার বলছে, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে। অথচ এর জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট পায় না কৃষক। ব্যক্তি মালিকানা ও খাস ভূমির মালিকানা সামন্ত প্রভু ও প্রভাবশালীদের। তারা চাষ করে না। এ জন্য জমি চাষে বাধ্য করার আইন প্রয়োজন। এ জেলায় খামার ভিত্তিক গবাদি পশু, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগী, মৌসুমী ফল ও সবজি চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। তবে এর উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সুবিধা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে পাওয়া যায় না। মৎস্য চাষে উপকূলীয় অঞ্চলে আরেকটি নতুন বিপ্লব ঘটেছে। সরকারী খাস জমি ও ব্যক্তিগত জমিতে বৈধ অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা মৎস্য প্রকল্প থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ টন মাছ বাজারে আসছে। এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে আধুনিক হ্যাচারী, দুগ্ধ খামার, ফিড প্রসেসিং কারখানা সবই হচ্ছে পরিকল্পনাহীন ভাবে। ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি ফিশ প্রসেসিং কারখানা গড়ে উঠেছে, যা শুরুতেই বন্ধ হয়ে গেছে। এই ধরনের প্রকল্পগুলোকে পরিকল্পিত ভাবে এবং সুচিন্তিত ভাবে বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সুচিন্তা প্রসূত ফোর কাউ, গুটি ইউরিয়া, জৈব সার, বায়োগ্যাস প্রকল্প ও ক্ষুদ্র সমবায় ভিত্তিক প্রকল্পগুলো গ্রামীন জনপদের কৃষকের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। সেনাবাহিনীর কারিগরী সহযোগিতায় এই ধরনের প্রকল্প বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

নোয়াখালীর পর্যটন শিল্প সম্ভাবনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো একটি উদ্যোগ হতে পারে। বিদ্যুৎ, পানীয় জল অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে নিঝুম দ্বীপ, চরকার্ক-সন্দ্বীপ চ্যানেল, কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর সহ বিশাল অঞ্চল জুড়ে পৃথক পর্যটন শিল্পের বিকাশ সম্ভব। এছাড়া ৪৩ কিলোমিটার লম্বা ঐতিহাসিক নোয়াখালী খালটি হতে পারে পর্যটন শিল্প বিকাশের আরেকটি অন্যতম উপাদান। জেলার উপকূলের ১৫শ বর্গকিলোমিটার জুড়ে গড়ে তুলতে হবে পরিকল্পিত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। পরিবেশের জন্য যা হবে খুবই প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রকৃতির এ দেয়াল গড়ে তোলার বিকল্প নেই। একই সাথে পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং জীব বৈচিত্রকে রক্ষা করার জন্য বনায়ন, বিশাল বিশাল জলাশয় খনন খুবই জরুরী, যা পাল্টে দেবে এ জনপদের মানুষের জীবন যাত্রাকে।
নোয়াখালীতে ইতিমধ্যে বেশকিছু উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নার্সিং ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট, মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাট্স), পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার অন্যতম। তবে জনসংখ্যার বিচারে এবং আয়তনের বিশালতায় সেই হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা তেমন উন্নতি ঘটেনি। মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে প্রতিবছর বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী শি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ থেকে উত্তোরনের প্রয়োজন, প্রয়োজন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি নোয়াখালীতে মেডিকেল কলেজ, ইপিজেড, নৌ বন্দর, সুবর্ণচর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ ও নির্মাণের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে; যা হবে স্থল ও নৌ পথে বহুমুখী বাণিজ্য প্রসারের একটি বিশাল উদ্যোগ।

নোয়াখালীর জেলার সন্তানরা যারা উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন, তারা বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দেন-দরবার করে এ উদ্যোগ গুলোর সফল বাস্তবায়ন করবেন- এ প্রত্যাশা জেলাবাসী করে। অবশ্যই বিষয়গুলো করুণা নয়, নোয়াখালীর মানুষ ইতিহাসে অনেক পংকিল পথে সাহসী ভূমিকা নিয়ে মানুষের পক্ষে দেশের পক্ষে দাড়িয়েছে, হারিয়েছে অনেক কিছু, সে তুলনায় পায়নি কিছুই। যে উদ্যোগ গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে তা হবে দেশের জন্য, দেশের অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। এগুলো বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থেই করতে হবে।

লেখক : বিজন সেন
নোয়াখালী প্রতিনিধি, চ্যানেল আই ও দৈনিক ভোরের কাগজ
নিয়মিত লেখক, নোয়াখালী ওয়েব

Tuesday, September 23, 2008

পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিজেম হবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শিক্ষার একটি আর্দশ প্রতিষ্ঠান -নির্বাহী পরিচালক মির্জা তারেকুল কাদের



সাংবাদিকতাসহ গণযোগাযোগের সকল শাখায় মানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)। আধুনিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রকাশনা ও গবেষণামূলক এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় সম্পূর্ণ বেসরকারী উদ্যোগে। ২০০৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম বিষয়ে অধিভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি গণমাধ্যম বিষয়ে বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ইনস্টিটিউট। বৃহত্তর নোয়াখালীর (লক্ষ্মীপুর জেলার, রামগঞ্জ উপজেলা) কৃতি সন্তান সাংবাদিক, জনসংযোগবিদ, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মির্জা তারেকুল কাদের এ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সমপ্রতি নোয়াখালী ওয়েবের সম্পাদক খালেদ সাইফুল্যাহ 'বিজেম' নিয়ে কথা বলেন নির্বাহী পরিচালক মির্জা তারেকুল কাদেরের সাথে। এ প্রসঙ্গে নিয়ে তিনি জানান, বিজেম পরিচালিত 'সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা' দেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে। এছাড়া স্বল্প মেয়াদী অন্যান্য কোর্স সম্পন্ন করেও শিক্ষার্থীদের অনেকেই বেকারত্বের দূর্বিসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, কোন প্রকার সরকারী অনুদান ছাড়াই এ ইনস্টিটিউট গত ৫ বছরে যে সাফল্য অর্জন করেছে তা সম্পূর্ণরুপে ব্যক্তি উদ্যোগেই হয়েছে। আমরা এ ইনস্টিটিউটকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শিক্ষার একটি আর্দশ ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদেরকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে আর্থিক সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। আমরা এখনো বাংলাদেশ সরকার অথবা বিদেশী দাতা সংস্থাগুলো হতে কোন প্রকার অনুদান বা সাহায্য পাইনি। ইলেক্ট্রনিক সাজসরঞ্জামের অভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা, বিদেশী সাহায্য, এবং বিদ্যেৎসাহী ও সংস্কৃতিমনা দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে এ ইনস্টিটিউটকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শিক্ষার একটি আর্দশ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে জানালেন নির্বাহী পরিচালক। তিনি আরো জানান, ইনস্টিটিউট পরিচালনার জন্য রয়েছে একটি গভর্নিং বডি ও একটি উপদেষ্টা পরিষদ। গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, বিদোৎসাহী ও সমাজসেবক জনাব আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিল্পপতি জনাব এস.এম.এমদাদুল ইসলাম ও শিল্পপতি জনাব নিসার আহমেদ। উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দি নিউজ টুডে সম্পাদক জনাব রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, এটিএন বাংলার চীফ এ্যাডভাইজার জনাব সাইফুল বারী এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি জনাব শওকাত মাহমুদসহ আরো কয়েকজন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও বিদোৎসাহী।
ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য : এ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে সাংবাদিকতা, জনসংযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সম্পাদনা ও প্রকাশনা, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপনকলা, ফটোগ্রাফী প্রভৃতি বিষয়ে কর্মমুখী, আধুনিক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, মৌলিক গবেষণা পরিচালনা এবং উল্লেখিত বিষয়ের উপর গ্রন্থ ও জার্নাল প্রকাশ করা। সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম) : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৪-৫ শিক্ষাবর্ষ হতে বিজেম সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে। প্রথম ব্যাচে ৪ জন ছাত্রীসহ মোট ৩৭ জন শিক্ষার্থী কোর্সটি সম্পন্ন করেছে।
প্রশিক্ষণ কোর্স : ডিপ্লোমা ছাড়াও এই ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগের বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে সমাপ্ত করেছে। এসব কোর্সের মধ্যে রয়েছে, বেতার ও টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনা, টেলিভিশন সাংবাদিকতা, আধুনিক জনসংযোগ ও জনসংযোগের কলাকৌশল, ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিকতা, কলাম লেখার কলাকৌশল, প্রেস রিলিজ লিখন কৌশল ও ছবি সম্পাদনা, ফটো সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল ফটোগ্রাফী, লেখালেখির কলাকৌশল, স্পোকেন ইংলিশসহ অন্যান্য কোর্স। এসব কোর্সের প্রত্যেকটিই শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। অর্জন ও
সাফল্য : প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিজেম ইতোমধ্যে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে। বিগত ৫ বছরে কোন প্রকার সরকারি ও বিদেশী দাতা সংস্থার সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়াই এই প্রতিষ্ঠান ২ হাজার ৫শ' শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। প্রশিক্ষণ লাভকারীদের মধ্যে রয়েছেন চাকুরীজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, জনসংযোগ কর্মকর্তা, গৃহিনী, সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তা। এদের প্রায় ১শ' জন এখন বিটিভি, এনটিভি, এটিএন বাংলা, ইটিভি, আরটিভি, চ্যানেল আই, চ্যানেল ওয়ান, বৈশাখী টেলিভিশন, বাংলাভিশন, দিগন্ত টিভিসহ অন্যান্য স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারী রেডিওতে টিভি সাংবাদিকতা, সংবাদ উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে স্টাফ রিপোর্টার, কন্ট্রিবিউটর, কলামিস্ট, ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে কাজ করছেন; যা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এ ইনস্টিটিউটের সফলতাই প্রমাণ করে।
প্রকাশনা ও গবেষণা : প্রকাশনা ও গবেষণা ক্ষেত্রে বিজেম ইতোমধ্যে 'জনসংযোগ ও প্রকাশনা' শীর্ষক একটি বৃহৎ সংকলন গ্রন্থ (৫২০ পৃষ্ঠা) প্রকাশিত হয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মির্জা তারেকুল কাদের। এছাড়া প্রকাশিত হয়েছে 'পাবলিক রিলেসন্স এন্ড মিডিয়া ডাইরেক্টরী' (২০০৪ ও ২০০৫)। এ ২টি প্রকাশনাই সুধীজন ও পাঠক কর্তৃক ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।
রিসোর্স পার্সন ও প্রশিক্ষক : কোর্স পরিচালনার জন্য ইনস্টিটিউটের রয়েছে দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত উচ্চ শিক্ষিত প্রশিক্ষক। নিজস্ব প্রশিক্ষক ছাড়াও অন্যান্য প্রশিক্ষকবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন: প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত স্বনামধন্য সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক, খ্যাতনামা সংবাদ উপস্থাপক ও টিভি ব্যক্তিত্ব, প্রখ্যাত লেখক, উচ্চারণ বিশেষজ্ঞ, ক্যামেরাম্যান, ভিডিও এডিটর এবং তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞগণ।
শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত সুবিধা সমূহ : ইনস্টিটিউটের রয়েছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সনি হ্যান্ডিক্যাম, প্যানাসনিক ডিভি ক্যাম, ওভার হেড প্রজেক্টরসহ আধুনিক ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জামাদি, সাউন্ড সিস্টেম, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনফারেন্স রুম ও ক্লাশ রুম। এছাড়াও রয়েছে দেশী-বিদেশী বইয়ে সম্মৃদ্ধ আধুনিক লাইব্রেরীসহ ইন্টারনেট সুবিধা। আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী এমন ছাত্র-ছাত্রী, লেখক ও সাংবাদিকদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে কতৃপক্ষ কোর্স ফি'র একটি নির্দিষ্ট অংশ ছাড় দিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও উৎসাহিত করে। ভবিষ্যৎ
কর্মপন্থা : সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা ছাড়াও ভবিষ্যতে বিজেম আরো কয়েকটি কোর্স পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে একটি হলো গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে মাস্টার্স কোর্স চালু। এছাড়া ডিজিটাল ভিডিও এডিটিং, ক্যামেরা অপারেশন্স, ডিজিটাল ফটোগ্রাফি, বিজ্ঞাপনকলা, চলচ্চিত্র নির্মাণ, সম্পাদনা ও প্রকাশনার কলাকৌশল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে নতুন নতুন প্রশিক্ষণ কোর্স প্রদানের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
যোগাযোগ, নির্বাহী পরিচালক, বিজেম, ২৫৭/৮ এলিফ্যান্ট রোড, কাটাবন ঢাল, ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৮৬১৭৯১২, ৯৬৭৪২২৪