Sunday, August 17, 2008

হ্যাকার আক্রান্ত নোয়াখালী ওয়েব! সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী


১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস । অনলাইন পত্রিকা নোয়াখালী ওয়েব এর জন্যও এটি একটি কালো দিবস। ২০০৭ সালের এদিনে নোয়াখালী ওয়েব স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক একটি হ্যাকার চক্রের কবলে পড়ে আক্রান্ত হয়েছিল। সেদিন আসলে কি ঘটেছিল তা আজকের নোয়াখালী ওয়েবের অগনতি পাঠকের কাছে অজানা। পাঠকরা যাতে বিষয়টি সঠিকভাবে জানতে পারে এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে পারে সেজন্য সেদিনের ঘটনা নিয়ে লিখেছেন, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান-

২০০৭ সালের ১৫ আগষ্ট বুধবার দেশীয় কিছু চোর আর আন্তর্জাতিক একজন হ্যাকারের কবলে পড়ে নোয়াখালী ওয়েব। জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধায় নোয়াখালী ওয়েব’র সম্পাদকের ব্যক্তিগত ইমেইল এড্রেসটি হ্যাকিং (চুরি) হয়ে যায়। যেহেতু এই ইমেইল এড্রেসটি সম্পাদকদের মালিকানাধীন তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান টেকনোল্যান্ডের ডোমেইন এবং হোস্টিং কোম্পানীতে এডমিন ইমেইল হিসাবে ব্যবহৃত সেহেতু টেকনোল্যান্ডের ডোমেইন সাইট এবং হোস্টিং এর কন্ট্রোল ও হ্যাকার এর কবলে পড়ে। এতে করে নোয়াখালী ওয়েব এবং নোয়াখালী ওয়েব অনলাইন গ্রুপ সহ টেকনোল্যান্ডের তৈরী করা বেশ কিছু কর্পোরেট ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যায়। যাদের মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম একটি সংগঠন বাংলাদেশ ক্যবল অপারেটর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব), বাংলাদেশ ক্যাবল টিভি দর্শক ফোরাম, ট্রান্স কন্টিনেন্টাল শিপিং লাইন লিমিটেড, রাইটক্লিক লিমিটেড, এ্যালোহা আইশপ, ডব্লিও এনবি নিউজ ইত্যাদি। হ্যাকার কতৃক আক্রান্ত হওয়ার পর সবগুলো ওয়েব সাইট এর ডাটাবেইজ মুছে ফেলে দিয়ে পর্ণো ওয়েব সাইট লিংক করে দেয়া হয় সেদিন। এতে করে করে একদিকে যেমন লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে পাশাপাশি পর্ণোসাইট প্রদর্শিত হওয়ায় ওয়েবসাইট গুলোর সাথে জড়িত ভিজিটররা বিভ্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ঐ সময় যারা এ ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজ করছিলেন তাদের স্ব স্ব কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছিল। আরেকটি ব্যাপার ছিল হ্যাকিং হওয়া ইমেইলটি ব্যবহার করে টেকনোল্যান্ড এর সকল ক্লাইন্ট , নোয়াখালী ওয়েব এর সকল পাঠক এবং হ্যাকিং হওয়া ইমেইলের মধ্যে স্টোরেজ করা সকল ঠিকানায় একটি ইমেইল প্রেরণ করা হয় সেদিন। যাতে টেকনোল্যান্ড এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নোয়াখালী ওয়েবের সম্পাদক সম্পর্কে বিভ্রান্তি চড়ানো হয়। শুধু তাই নয় ইমেইল এর সাথে এমন একটি লিংক প্রেরণ করা হয়েছিল সেদিন যাতে ক্লিক করা মাত্র মেইল প্রাপকের কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। তখন এ ব্যাপারে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছিল, যার নং ১১০১, তারিখ : ১৮/১/২০০৭ ইং এবং ১৯/৮/২০০৭ ইং তারিখে র‌্যাব-৩ এর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এছাড়া সেনাবাহিনী প্রধান জনাব জেনারেল মইন উ. আহম্মেদ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দেয়া হয়েছিল সেদিন। ২১ আগষ্ট দৈনিক যুগান্তর এবং ২২ আগষ্ট দৈনিক আমাদের সময়ে এ সংক্রান্ত সংবাদ বিশেষ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছিল। থানার সাধারণ ডায়েরী এবং র‌্যাবের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগের বক্তব্য অনুসারে যে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল তার বক্তব্য ছিল, ‘কিছুদিন ধরে নোয়াখালীর একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব নুরুল আলম মাসুদ নোয়াখালী ওয়েব সম্পর্কে বিভিন্ন জনের কাছে বিষেদাগার ছড়িয়ে আসছেন। সমপ্রতি নোয়াখালীর আরেকটি উন্নয়ন সংস্থা এনআরডিএস এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ছেলে জনাব সুমিত আওয়াল নোয়াখালী যান এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নুরুল আলম মাসুদের সাথে বৈঠক করেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া জনাব সুমিত আওয়াল নিজেও নুরুল আলম মাসুদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতার কথা নোয়াখালী ওয়েব এর সম্পাদককে জানান। নোয়াখালী থেকে ফিরে আসার পর জনাব সুমিত আওয়াল আহমেদ নিতুল নামে পূর্ব পরিচিত আরেকজন ছেলে (ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর ডিপুটি পরিচালক এর ছেলে) সহ ঘন ঘন নোয়াখালী ওয়েব অফিসে আসতে থাকেন এবং বিভিন্ন ছলছূতায় অফিসের কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। বিষয়টি নোয়াখালী ওয়েবের সম্পাদকের কাছে সন্দেহজনক মনে হলেও সৌজন্যের খাতিরে কিছু বলতে পারেননি। সর্বশেষ তারা যেদিন এসেছিলেন তার কিছুদিন পর ডেভিড রিক্যাচ নামে একজন আমেরিকান নোয়াখালী ওয়েব এ বিজ্ঞাপন দেয়ার কথা বলে সম্পাদক বরাবর একটি মেইল করে। সম্পাদক একটি অফার লেটার প্রেরণ করলে উক্ত ডেভিড জানায় সে নোয়াখালী ওয়েবের উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞাপন দিবে। ঘটনার দিন সম্পাদক যখন বুঝতে পারে বিষয়টা সম্পূর্ণ মিথ্যা তথক্ষনে আন্তর্জাতিক হ্যাকার ডেভিড অনেককিছু তার দখলে নিয়ে নেয়। মিঃ সুমিত ব্যক্তিগত জীবনে ওয়েব হোস্টিং এর ব্যবসা করে (সরকারী অনুমোদন বিহীন প্রতিষ্ঠান)। বাংলাদেশে যারা ইন্টারনেট এক্সপার্ট তাদের মধ্যে মিঃ সুমিত এবং তার সহযোগী আহমেদ নিতুল অন্যতম। অবশ্য তাদের এ মেধা ভালো কোন কাজে ব্যবহার করা হয়না। উল্লেখ্য, মিঃ সুমিত এবং আহম্মেদ নিতুল বাংলাদেশে ইন্টারনেট হ্যাকার (চোর) দের যে গ্রুপ রয়েছে তার সক্রিয় সদস্য। যারা আবার আন্তর্জাতিক ক্র্যাডিট কার্ড হ্যাকার চক্রের সাথেও জড়িত বলে ধারণা করা হয়। ইন্টারনেটে সার্চ করলে তাদের সম্পর্কে অনেক বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। এছাড়া মিঃ সুমিত নোয়াখালী গ্রুপ নামে একটি ইয়াহু গ্রুপ পরিচালনা করে আসছেন ২০০৪ সাল থেকে। এদিকে নোয়াখালী ওয়েব গ্রুপ ২০০৬ সালে শুরু করলেও কার্যক্রম এবং সদস্যদের দিক দিয়ে নোয়াখালী গ্রুপ থেকে অনেকদূর এগিয়ে যায়। নোয়াখালী ওয়েব এবং নোয়াখালী ওয়েব অনলাইন গ্রুপের সাফল্যে ইর্ষাকাতর হয়ে এবং অভিযুক্ত নুরুল আলম মাসুদের প্ররোচণায় ও আর্থিক সহায়তায় মিঃ সুমিত এ ধরনের ধ্বংসাত্বক কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। এক্ষেত্রে মিঃ সুমিত যেহেতু হ্যাকার চক্রের সাথে জড়িত সেহেতু আন্তর্জাতিক হ্যাকার ডেভিড এর সহায়তা নিয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া আহম্মেদ নিতুল নামে ছেলেটি, সে তথ্য পাচার এর দায়িত্বে ছিল বলে সম্পাদক মনে করেন। এ ঘটনার সময় প্রাণের নির্বাহী প্রধান নুরুল আলম মাসুদ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং বিভিন্ন জনকে ফোন করে ‘নোয়াখালী ওয়েব’ এর হ্যাকিং এর খবরটি দেয়ার ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে উঠেন। এদিকে যেসময় নোয়াখালী ওয়েব সহ নোয়াখালী ওয়েব অনলাইন গ্রুপ আক্রান্ত হয় ঠিক একই সময়ে মিঃ সুমিত এর পরিচালনাধীন নোয়াখালী গ্রুপ এর নাম পরিবর্তন করে নোয়াখালী অনলাইন গ্রুপ রাখা হয় যা নোয়াখালী ওয়েব অনলাইন গ্রুপ এর সাথে সাঞ্জস্যপূর্ণ। ঘটনার আগে মিঃ সুমিত কারণে অকারণে নোয়াখালী ওয়েব অফিসে আসলেও ঘটনার পর একবার ও নোয়াখালী ওয়েব অফিসে আসেননি কিংবা সম্পাদককে ফোন করে সমবেধনাটুকুও জানাননি। এতে করে প্রতিয়মান হয় নোয়াখালী ওয়েব , নোয়াখালী ওয়েব অনলাইন গ্রুপ এবং অন্যান্য সাইটগুলো হ্যাকিং (চুরি) এর ব্যাপারে মিঃ সুমিত আওয়াল এবং মিঃ নুরুল আলম মাসুদ, আহম্মেদ নিতুল সম্পূর্ণ রুপে জড়িত। যেহেতু বাংলাদেশে কোন সাইবার ল' (আইন) নাই সুতরাং জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।
‘নোয়াখালী ওয়েব এর মত একটি সামাজিক সেবামূলক সাইট বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর মানুষদের বিরুদ্ধে একটি আঘাত ছিল সেদিন। শুধু নোয়াখালী ওয়েব নয়, পরবর্তীতে বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির ওয়েবসাইট সহ বেশকিছু ওয়েবসাইট আক্রান্ত হওয়ার খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। কয়েকমাস আগে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইমের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছিল। সে থেকে বোঝা বাংলাদেশ অনেক বেশি সাইবার হুমকির মুখে রয়েছে। এতকিছুর পরও আমাদের সরকারের বিষয়টা নিয়ে এখনো টনক নড়েনি। এমতাবস্থায় সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন সহ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ যেকোন সময় সাইবার বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞ মহলের। -ডেস্ক রিপোর্ট, নোয়াখালী ওয়েব।

Monday, March 24, 2008

নিউজ এলার্ট সিস্টেম চালু করেছে 'নোয়াখালী ওয়েব'

অনলাইন পত্রিকা ও কমিউনিটি পোর্টাল 'নোয়াখালী ওয়েব' তাদের নিবন্ধিত পাঠকদের জন্য নিউজ এলার্ট সিস্টেম চালু করেছে। ফলে দেশ/বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয় পত্রিকাটির পাঠকরা এখন থেকে যেকোন গুরুত্বপূর্ণ খবর কিংবা লেখা সম্পর্কে তাদের ইমেইলে নিউজ এলার্ট পাবেন। নিত্য নতুন বিভাগ সমৃদ্ধ অনলাইন পত্রিকাটি নিয়মিত পড়ার জন্য এবং নিউজ এলার্ট পাওয়ার জন্য পাঠকদের অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে। তবে নিবন্ধন করা যাবে সম্পূর্ণ ফ্রি!। http://www.noakhaliweb.com.bd/

Sunday, February 24, 2008

কোম্পানীগঞ্জে ছবিসহ ভোটার রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন, নোয়াখালী ওয়েব সহ বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহনে ভোটার উদ্বুদ্ধকরন র‌্যালী


কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিসহ ভোটার রেজিষ্ট্রেশন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রনয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল ৯টায় উপজেলা চত্ত্বর থেকে এক বিরাট ভোটার উদ্বুদ্ধকরন র‌্যালী বসুরহাট বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, অফিস, এনজিও, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগন অংশ গ্রহন করে। পরে বসুরহাট ইসলামীয় সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে ছবি তুলে ভোটার রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এ কাজে দায়িত্বে নিয়োজিত মেজর আকতার। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মুনির হোসেন খান, নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান, বসুরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মির্জাসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বসুরহাট একুশে মেলায় 'নোয়াখালী ওয়েব' পুরস্কৃত

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পাচদিন ব্যাপী একুশে মেলার শেষ দিন বৃহস্পতিবার সমাপনী দিনে অনলাইন পত্রিকা ও কমিউনিটি পোর্টল 'নোয়াখালী ওয়েব'র স্টলকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করেছে মেলা উদযাপন কমিটি। এ ছাড়া কলেজ পর্যায়ে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে সরকারি মুজিব কলেজ, ২য় পুরস্কার পেয়েছে বামনী কলেজ। মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়, ২য় পুরস্কার পেয়েছে যোগিদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ৩য় পুরস্কার পেয়েছে মাকসুদাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে বসুরহাট একাডেমী, ক্রিসেন্ট প্রি ক্যাডেট স্কুল, শান্তিরহাট আইডিয়াল একাডেমী। প্রদর্শণী ও বিক্রয় কেন্দ্র পর্যায়ে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে বসুরহাট কলেজ গেইটের শিক্ষা বিপনী, ২য় পুরস্কার পেয়েছে ইদ্রিছিয়া রোডের ওমেন্স গ্যালারী ও ৩য় পুরস্কার পেয়েছে কলেজ রোডের বিছমিল্লাহ ডেকোরেটর এন্ড গিফট কর্ণার।

বসুরহাট একুশে মেলার সমাপনী রাতে দর্শক মাতালেন কুষ্টিয়ার লালন শিল্পীরা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পাচদিন ব্যাপী একুশে মেলার সমাপনী দিন বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) বিকালে সমাপনী আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে মেলা কমিটির সদস্য সচীব ও কোমপানীগঞ্জ সাংস্কৃতিক ফোরামের আহবায়ক শহীদ উদ্দিন বাবুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মুনির হোসেন খান। বক্তব্য রাখেন, পৌর চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন চৌধুরী, ওসি রমজান হোসেন, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মির্জা, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়ত খান, ভাষা আন্দোলনের সংগঠক বসুরহাট হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষক আবুল হাসেম, নোয়াখালী মেইল সম্পাদক মকছুদের রহমান মানিক, কবিতা পরিষদের সভাপতি আবদুল হালিম রকি, নৃত্যকলা একাডেমীর সভাপতি হারুন অর রশিদ শাহেদ, অমর সাংস্কৃতিক সংস্থা সভাপতি বাবু অজয় আচার্য্য, মুক্ত সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিম জাবেদ প্রমুখ।মেলার শেষ রাতে দর্শক মাতালেন কুষ্টিয়ার লালন শিল্পীবৃন্দ। কুষ্টিয়ার লালন একাডেমীর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আল কাদরীর নেতৃত্বে একদল শিল্পী এতে গান পরিবেশন করেন। শিল্পীদের মধ্যে লালন শাহ সিনেমার গায়িকা ফরিদা ইয়াছমিন, লালন সঙ্গীত শিল্পী সুজন রহমান, টিপু সুলতান, মৌসুমী বালা ও কাঙ্গালীনি সুফিয়া। এ সময় তবলায় ছিলেন, ইমতিয়াজ হাসান পুলক, অক্টোপ্যাটে ছিলেন সুমন, বেজ গীটারে সনি, লীড় গিটারে হ্যাপী, কি-বোর্ডে সুজন রহমান। এ সময় কুষ্টিয়ার লালন একাডেমীর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আল কাদরী লালন একাডেমীর সঙ্গীত শিল্পী ও দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত মামুন হোসেন রতনের চিকিৎসায় কোম্পানীগঞ্জবাসির অবদানের জন্য আন্তরীক ধন্যবাদ জানান।

কোম্পানীগঞ্জে প্রথম বারের মতো পাচদিন ব্যাপী একুশে মেলার আয়োজন, অনলাইন মিডিয়া পার্টনার নোয়াখালী ওয়েব

'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' উপলক্ষে প্রথম বারের মতো কোম্পানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে পাচদিন ব্যাপী একুশে মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারী বিকেল ৩টায় নোয়াখালী পুলিশ সুপার মোঃ মুশফেকুর রহমান এ মেলার উদ্বোধন করবেন। এ নিয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম রমজান হোসেনকে আহবায়ক করে একুশে মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপনের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।কমিটির সদস্য সচিব সিপিপি নেতা মোঃ শহীদ উদ্দিন বাবুল বলেন, মেলাকে ঘিরো সমগ্র বৃহত্তর নোয়াখালীতে প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে। ব্যাপক সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। মেলায় একুশের চেতনাকে প্রাধাণ্য দিয়ে অনুষ্ঠান মালা সাজানো হয়েছে। আগামী ১৭ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারী পাচদিন ব্যাপী এ মেলার প্রস্তুতি নিয়ে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বলেও তিনি জানান।মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে ঢাকার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীবৃন্দ, চট্টগ্রাম বেতার ও টিভির শিল্পীবৃন্দ, সোনিয়াসহ ক্লোজআপ ওয়ান শিল্পীবৃন্দ, কুষ্টিয়ার লালন শিল্পবৃন্দসহ কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগীত বিদ্যালয়, কোম্পনীগঞ্জ সাংস্কৃতিক ফোরাম, ব্যাঞ্জণা খেলাঘর আসর, কোম্পানীগঞ্জ কবিতা পরিষদ, অমর সাংস্কৃতিক সংগঠন, নৃত্যকলা একাডেমী, মুক্ত সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলো অংশ গ্রহন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মেলার অনলাইন মিডিয়া পার্টনার 'নোয়াখালী ওয়েব'।

Saturday, December 29, 2007

আজ নোয়াখালী মুক্ত দিবস, ১১দিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু



৭ ডিসেম্বর শুক্রবার নোয়াখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে এক রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নোয়াখালী জেলা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়েছিলো। মুক্তি সেনারা এ দিন মাইজদী পিটিআইতে রাজাকারদের শক্ত ঘাটির পতন ঘটিয়ে নোয়াখালীর মাটিতে উড়েছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা। জেলা শহর মাইজদী কোর্ট এবং আশপাশের জনপদ একাত্তরের এ দিনে ভোর না হতেই বিজয়ের আনন্দে জয়বাংলা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিলো। ২৫ মার্চের পর মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় একমাস নোয়াখালীকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলো। এরপর প্রতিপদে বাধা পেয়ে বহু কষ্টে পাকিস্তানীরা ২৩ এপ্রিল নোয়াখালী দখল করে নেয়। এরপর দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারত থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ নিয়ে আবার অস্ত্র হাতে মাঠে নামে মুক্তিযোদ্ধারা। সাথে ছিল এফএফ ও বিএলএফ। অনেক রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৪ ডিসেম্বর সমস্ত পরিকল্পনা চুড়ান্ত করে ৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সব দল এক সাথে মাইজদী কোর্ট আক্রমন করে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনী কতৃক শহর ঘিরে ফেলার সংবাদ পেয়ে উত্তর দিক দিয়ে পালিয়ে বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ি হয়ে লাকসাম অতিক্রম করে কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্টে আশ্রয় নেয়। কিন্তু জেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে দুই শতাধিক রাজাকার পিটিআই ক্যাম্পে থেকে যায়। তাদের পরাভূত করতে দুই দিন যুদ্ধ করতে হয়। অবশেষে ৭ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা নোয়াখালীর মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেয় স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা। এ উপলক্ষে নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১১দিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু হচ্ছে শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে। মুক্ত নোয়াখালী স্মারকস্তম্বে শুক্রবার বিকাল ৩টায় এ মেলার উদ্বোধন করবেন কোম্পানীগঞ্জের বাঞ্চারামযুদ্ধে শহীদ ওহিদুর রহমান অদুদের বড়ভাই মোঃ বদিউর রহমান ও বৃহত্তর নোয়াখালী মুজিব বাহিনীর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান বেলায়েত। অনুষ্ঠানে সাবেক এমপি ফজলে এলাহীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থাকবেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুল কবির চৌধুরী। মেলা পরিচালনার জন্য নোয়াখালী কামন্ডার মোজাম্মেল হক মিলনকে আহবায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোয়াররফ হোসেনকে যুগ্ম আহবায়ক করে জেলার সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেলায় অর্ধ শতাধিক স্টলে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন মুহুর্তকে উপস্থাপন করা হয়েছে। মেলায় প্রতিদিন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। আজ (শুক্রবার, ৭ ডিসেম্বর) কোম্পানীগঞ্জে ও মুক্ত দিবস। এ উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছের জানান, শুক্রবার সকাল ৭টায় ১৬ নাম্বার সুইচ গেইটে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জেয়ারত ও পূষ্পমাল্য অর্পন, ১০টায় র্যালী শেষে উপজেলা শহীদ মিনারে পূষ্পমাল্য অর্পন ও আলোচনা সভা করবেন। ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধারা বর্তমান কোম্পানীগঞ্জ থানায় স্থাপিত রাজাকার ক্যাম্পে আক্রমন করে পাকমিলিশিয়া বাহিনীর ৯০জন সশস্ত্র সদস্যকে আত্মসমর্পনে বাধ্য করে কোম্পানীগঞ্জকে মুক্ত ঘোষনা করে। এর আগে ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী দেশ ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে ওই রাতেই এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার ক্যাম্পগুলোতে আক্রমন করে হানাদার বাহিনীর সদস্যদেরকে পরাজিত করে। সেই থেকে ৭ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জের ইতিহাসে একটি অবিস্মরনীয় দিন হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। সশস্ত্র সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ওই লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী ও ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান বলেন, ১৯৭১সালের ৪ সেপ্টেম্বর এ অঞ্চলের কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাবাজারে অভিযানে যায়। কিন্তু পাকমিলিশিয়ারা মুক্তি বাহিনীর আগমন বার্তা পেয়ে স্থান ত্যাগ করে ১৪নাম্বার সুুইচ-এ বাঞ্চারাম রাস্তার মাথায় বেড়ীবাঁধের উপর ওঁতপেতে থাকে এবং রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধারা ফিরে আসার সময় অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে অংশ গ্রহণকারী ১১জন বীর যোদ্ধার মধ্যে ৬জনই ঘটনাস্থলে নিহত হয়। নিহত ৬জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে বেগমগঞ্জের ছালেহ আহম্মদ মজুমদার, আখতারুজ্জামান লাতু, সোনাপুরের আবদুর রব বাবু, সিরাজপুরের ইসমাইল এবং মুছাপুরের মোস্তফা কামাল ভুলুর লাশ ১৬নং স্লুইচে দাফন করা হয়। এ ছাড়া নিহত ফারুকের লাশ নদীতে পড়ে ভাটার টানে চলে যাওয়ায় পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।