Tuesday, August 10, 2010

বর্ণাঢ্য উৎসবে বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলায় 'নোয়াখালী ওয়েব’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

নোয়াখালী :

বৃহত্তর নোয়াখালী কমিউনিটির অনলাইন পত্রিকা নোয়াখালী ওয়েব ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে নোয়াখালী ওয়েব পাঠক ফোরাম, নোয়াখালী জেলার উদ্যোগে বুধবার বিকেল ৫টায় নোয়াখালীতে কেক কেটে উৎসবের আয়োজন করা হয়। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান শেষে বিআরডিবি প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ হাযারী। এতে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: আলমগীর ইউছুপের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালী ওয়েব’র সম্পাদনা পরিষদ সদস্য সাংবাদিক মাহমুদুল হক ফয়েজ, দিগন্ত টিভির নোয়াখালী প্রতিনিধি ও নোয়াখালী ওয়েব’র সম্পাদনা পরিষদ সদস্য সাইফুল্যাহ কামরুল। নাঈম উদ্দিন কিছমতের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী ওয়েব’র নির্বাহী সম্পাদক ইকবাল হোসেন মজনু।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দিগন্তের ডাক’র প্রধান নির্বাহী আবু নাছের খান পান্নু, আরটিভি’র নোয়াখালী প্রতিনিধি জামাল হোসেন বিষাদ, নোয়াখালী কম্পিউটার সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক স্বপন শাহ, সাপ্তাহিক ধূমকেতু’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অমৃত লাল ভৌমিক সুমন, নোয়াখালী ওয়েব পাঠক ফোরাম নোয়াখালী জেলার আহবায়ক গোলাম কিবরিয়া রাফি প্রমূখ। এসময় যায়যায়দিন ও বিডিনিউজের নোয়াখালী প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জু, দেশ টিভির নোয়াখালী প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগ, শীর্ষ নিউজ ডটকমের প্রতিনিধি ইয়াকুব নবী ইমন, আবদুল মোতালেব, আবদুস সালাম বাচ্ছু, প্রণব আচার্য্য সহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। পরে প্রধান অতিথি অন্যান্যদের সঙ্গে নিয়ে নোয়াখালী ওয়েব’র জন্মদিনের ৫টি মোমবাতি নিভিয়ে কেক কেটে সবাইকে খাওয়ান এবং সবার মাঝে কেক ও মিষ্টিসহ নাস্তা বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ হাযারী বলেন, আমার চাকরী জীবনে ১৩স্থানে চাকরী করেছি, তবে নোয়াখালীই একমাত্র ব্যতিক্রম। এখানকার মানুষ গুলো খুবই বন্ধু পরায়ন। আর আজকে একটি ব্যতিক্রমী অনলাইন পত্রিকা নোয়াখালী ওয়েব’র জন্মদিনে শরিক হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। তিনি নোয়াখালী ওয়েব’র সাফল্যা কামনা করে বলেন, এটি ডিজিটাল নোয়াখালী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক মো: আলমগীর ইউছুপ বলেন, নোয়াখালী ওয়েব-এ নোয়াখালীর দৈনন্দিন সংবাদের পাশাপাশি, সাহিত্য সংস্কৃতি ও নিহত গুণীজনদের জীবনী প্রকাশ করে পাঠকদেরকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তিনি নোয়াখালী ওয়েব’র উন্নতি কামনা করে এ পত্রিকার সম্পাদক ও কলা-কৌশলীদের অভিনন্দন জানান।

সাংবাদিক মাহমুদুল হক ফয়েজ বলেন, বর্তমান সরকার গত বছর বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার ঘোষণা দিয়েছে। আর আমরা নোয়াখালীবাসী পাঁচ বছর আগে নোয়াখালীকে ডিজিটাল কারার ঘোষণা দিয়ে নোয়াখালী ওয়েব সৃষ্টি করেছি। তিনি এর জন্য নোয়াখালী ওয়েব’র সম্পাদক ও প্রকাশক খালেদ সাইফুল্যাহর দীর্ঘয়ু কামনা করেন।

পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক সাইফুল্যাহ কামরুল বলেন, নোয়াখালী ওয়েব শুধু আমাদের নয় সমগ্র নোয়াখালীবাসীর পত্রিকা। এটি নিয়ে আমরা যে কোন জায়গায় গর্ব করতে পারি। তিনি এতে নোয়াখালী সবাইকে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে লিখার আহবান জানান।


ফেনী :

বৃহত্তর নোয়াখালী কমিউনিটির অনলাইন পত্রিকা নোয়াখালী ওয়েব ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে নোয়াখালী ওয়েব পাঠক ফোরাম, ফেনী জেলার উদ্যোগে ফেনীতে আলোচনা সভা, র‌্যালী, কেক কেটে ও বেলুন উডিয়ে আনন্দ উৎসব করেছে পাঠকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ফেনী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম। দৈনিক ফেনীর সময়’র সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফারুক হারুন, ফেনী প্রেসক্লাবের সভাপতি একেএম আবদুর রহীম, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক হকার্স সম্পাদক নুরুল করিম মজুমদার, ফেনী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক জহুর সম্পাদক বখতেয়ার ইসলাম মুন্না। নোয়াখালী ওয়েব’র ফেনী প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল-মামুনের পরিচালানায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী ওয়েব’র নির্বাহী সম্পাদক ইকবাল হোসেন মজনু।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক সমকালের ষ্টাফ রিপোর্টার শাহজালাল রতন, চ্যানেল আইয়ের ফেনী প্রতিনিধি ও সাপ্তাহিক ফেনীর খবর’র সম্পাদক রবিউল হক রবি, ফেনী প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের আঞ্চলিক অফিস প্রধান মো: আবদুল হক, ফেনী পয়েট সোসাইটির সভাপতি কবি মাহবুব আলতমাস, সাপ্তাহিক বর্ণমালা ও মাসিক সরাসরি’র সম্পাদক আবু তাহের ভূঞা, ফেনী ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা কামাল বুলবুল, ফেনী প্রগ্রেসিভ লীগ (এফপিএল) এর সভাপতি কামরুল ইসলাম, কবি ইকবাল চৌধুরী, ফেনী থিয়েটারের সমন্বয়ক কাজী ইকবাল পরান প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক ফেনীর গৌরব’র সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের সময়ের ফেনী প্রতিনিধি কামাল উদ্দিন ভূঞা, ফেনী সাহিত্য সংসদের সভাপতি সাবিহ মাহমুদ, দৈনিক যুগান্তরের দাগনভূঞা প্রতিনিধি মো: আবু তাহের, দৈনিক শোয়রবিজ কড়চা’র ফেনী প্রতিনিধি জহিরুল হক মিলুসহ ফেনী বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন ও ফেনীর নারী- শিশু সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বৃহত্তর নোয়াখালী কমিউনিটির পত্রিকা নোয়াখালী ওয়েব গণমানুষের কথা তুলে ধরে বৃহত্তর নোয়খালীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তরা আশা প্রকাশ করেন। তারা বিশ্ব ব্যাপী বৃহত্তর নোয়াখালীর খবর ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যম অনলাইন পত্রিকা নোয়াখালী ওয়েব’র প্রশংসনীয় তথ্য সেবাকে অভিনন্দন জানান। অবাধ তথ্য সেবা প্রসারে নোয়াখালী ওয়েব সকলকে পড়তে অনুরোধও করেন। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল বৃহত্তর নোয়াখালী গড়ার লক্ষ্যে নোয়াখালী ওয়েবকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানায়ে এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বিশালাকৃতির একটি কেক কেটে নোয়াখালী ওয়েব’র জন্মদিনকে উৎসব মূখর করে তোলেন। পরে অতিথিরা একে অপরকে কেক খাইয়ে দিবসটিকে স্বরণীয় করে তোলেন এবং উপস্থিত সবাইকে কেকসহ বিভিন্ন প্রকারের ফল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি বিশালাকৃতির একটি বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও পরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী ফেনী প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


লক্ষ্মীপুর :

মিলনায়তনে বৃহত্তর নোয়াখালী কমিউনিটির একমাত্র অনলাইন পত্রিকা ‘নোয়াখালী ওয়েব’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক নতুন চাঁদ সম্পাদক হোসাইন আহমদ হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে জন্মদিনের কেক কেটে শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নোয়াখালী ওয়েবের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য, নোয়াখালী অঞ্চলের কৃতি সাংবাদিক ও ফিচার লেখক মাহমুদুল হক ফয়েজ। এসময় এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে নোয়াখালী ওয়েব’র লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মানিকের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী ওয়েব পাঠক ফোরাম’র লক্ষ্মীপুর জেলা আহবায়ক মোঃ জাকির হোসেন ভূঁইয়া আজাদ, যুগ্ম আহবায়ক ও ইলেকট্রনিক্স মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল আজিম, নোয়াখালী ওয়েবের প্রবাস প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন, জেলা যুবলীগের আহবায়ক সাইফুল হাসান পলাশ, যুগান্তর ও এনটিভি জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক সংগ্রাম জেলা প্রতিনিধি সেলিম উদ্দিন নিজামী, দৈনিক যায়যায়দিন প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম স্বপন, কালের কন্ঠ প্রতিনিধি মীর ফরহাদ হোসেন সুমন, বেসরকারি সংস্থা সেভ’র নির্বাহী পরিচালক বনি রড্রিক্স প্রমূখ।

প্রধান অতিথি বলেন, চলমান সরকারের ভিশন-মিশন বাস্তবায়নে নোয়াখালী ওয়েব অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। তথ্যের অবাধ সুফল ছড়িয়ে দিয়ে দেশের জনপ্রিয় এ সাইটটি ইতিমধ্যে দেশে-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।

বনি রড্রিক্স তার বক্তব্যে নোয়াখালী ওয়েবের ষষ্ঠ বর্ষ পেরিয়ে শতবর্ষে পৌঁছার এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে হোসাইন আহমদ হেলাল বলেন, অনলাইন পত্রিকা ‘নোয়াখালী ওয়েব’ আজ সর্বমহলে সমাদৃত। তিনি আশা করেন, এটি আরও দায়িত্বশীলতার সাথে এগিয়ে যাবে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের জন্য ওয়েব পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে অনুষ্ঠানে আরও অংশগ্রহণ করেন, বেসরকারি সংস্থা জেমস’র নির্বাহী পরিচালক আসাদুজ্জামান চৌধুরী, ভয়েস’র নির্বাহী পরিচালক সামছুল আলম লিটু, এনআরডিএস’র কর্মকর্তা বাহার উদ্দিন, দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা ও লক্ষ্মীপুর বার্তার জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন, আজকের প্রত্যাশা প্রতিনিধি মোঃ ফিরোজ হাওলাদার, দেশ জনতা প্রতিনিধি আনোয়ার রহমান বাবুল, খবর প্রতিনিধি নুর আহমদ মিলন, ফোকাসবাংলা প্রতিনিধি তাপস সাহা, আলোর দিগন্ত প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন জবু, সোনালী বার্তা প্রতিনিধি একিউএম শাহাব উদ্দিন, সমকাল ও নোয়াখালী ওয়েব’র রায়পুর প্রতিনিধি আতোয়ার রহমান মনির, কমলনগর প্রতিনিধি সানা উল্লাহ সানু, জাতীয় নিশান প্রতিনিধি ছাইফুল্লাহ হেলাল, আমার কাগজ প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম খান প্রমূখ। শেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

www.noakhaliweb.com.bd | www.noakhalinews.com | www.noakhali.tv

‘নোয়াখালী ওয়েব’ এ ৫শ’র অধিক মিডিয়ার লিংক সংযুক্ত

বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকা নিয়ে অনেক লিংক সাইট থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো আপডেট থাকেনা ফলে পাঠকরা সঠিক লিংক খুঁজে পায় না। এজন্য পাঠকদের সুবিধার্থে বৃহত্তর নোয়াখালী কমিউনিটির পত্রিকা ‘নোয়াখালী ওয়েব’ এর মিডিয়া লিংক পেইজে ৫০০ এর অধিক দেশী-বিদেশী পত্র-পত্রিকা, রেডিও এবং টিভি চ্যানেল এর লিংক সংযুক্ত করা হয়েছে। নিয়মিতভাবে আপডেট হয় বলে পাঠকরা খুব সহজে এখান থেকে বাংলাদেশের যেকোন পত্র পত্রিকা রেডিও-টিভি-সংবাদ মাধ্যমের সঠিক লিংক খুব সহজে খুঁজে পাবেন। প্রথম পাতায় ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম’ এ ক্লিক করুন অথবা নোয়াখালী ওয়েব’র মিডিয়া পেইজের ঠিকানা : http://www.noakhaliweb.com.bd/media/

Tuesday, October 20, 2009

বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতিসন্তানদের একজন ভাষাসৈনিক গাজীউল হক


ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের নাম আমাদের সবার পরিচিত।তিনি একাধারে চিলেন বিপ্লবি,কবি, লেখক, গীতিকার..এবং আইনজীবি। গাজীউল হক ১৯২৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহত্তর নোয়াখালীর ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছাড়াও পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অধ্যাপক গোলাম আজমসহ অন্যদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার শহীদ জননী প্রয়াত জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিরও তিনি সক্রিয় সদস্য ছিলেন।১৯৪২ সালে তিনি প্রথম জেলে যান মাত্র ১৩ বছর বয়সে।নোয়াখালির ছাগলনাইয়ার এক সরকারি অফিসের উপর থেকে ব্রিটিশ পতাকা নামিয়ে মুসলিম লীগের পতাকা লাগানোর অপরাধে সে সময় তাঁকে জেলে যেতে হয়।ভাল ছাত্র এবং অল্প বয়সের কারনে সে যাত্রায় চাড়া পান তিনি।তাঁর বাবাও ছিলেন ব্রটিশবিরোধি আন্দোলনের সাথে জড়িত।১৯৫৬ সালে যখন তাঁর বাবা মারা যায় তখনও তিনি ছিলেন জেলে। কেবল ভাষাসৈনিক বললে তাঁর পরিচয়কে খণ্ডিত করা হয়। ভাষাসৈনিক হিসেবে গৌরবের পরিচয়বাহী এ মানুষটি ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েই তাঁর দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করেননি, পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এখানেই তাঁর মহত্ত্ব, এখানেই তাঁর সামাজিক প্রতিশ্রুতি পালনে নিষ্ঠার প্রমাণ। এ কারণেই তিনি সবার নমস্য হয়ে উঠেছেন।গাজীউল হকের সৌভাগ্য যে, ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাই তিনি পাকিস্তানের অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পেরেছিলেন। উর্দু চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার প্রেরণা পেয়েছিলেন অন্তরের তাগিদ থেকে। ওই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র তো ছিল হাজার হাজার। সবাই তো আর ১৪৪ ধারা ভাঙার সাহস করেননি। যে কজন সেই সাহস প্রকাশ করেছেন তাঁদের একজনের নাম গাজীউল হক। উর্দুর বিরুদ্ধে 'না' বলার নেতৃত্বতো আর সবাই দেননি। তা দিয়েছিলেন বলেই তিনি আজ সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। কেবল ৫২ নয়, ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ৬৪-এর সামপ্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, আশির দশকজুড়ে সৈরাচারবিরোধি আন্দোলন- সব ক্ষেত্রেই গাজীউল হকের ছিল উলে­খযোগ্য ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের কথা কে না জানে, সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। লড়াকু সৈনিক হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তিনি সম্মানিত। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এ মানুষটিকে আমাদের সময়ে দেখতে পেয়েছি, এটি পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার বলে মনে করি।পেশাগত জীবন তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।তিনি সাধারন মানুষের জন্য নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মামালা লড়তেন। কেউ টাকার অভাবে মামালা লড়তে না পারলে তিনি এগিয়ে যেতেন...রাজনীতিতে তিনি জড়িত ছিলেন।আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও ছিলেন তিনি।এছাড়া গাজীউল হক প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) এর চেয়ারম্যান ছিলেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এলএলবি ডিগ্রিও অর্জন করেন।তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, জেলের কবিতা (১৯৫৯), এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম (১৯৭১), এগিয়ে চলো (১৯৭১), বাংলাদেশ আনচেইন্ড (১৯৭১), মোহাম্মদ সুলতান (১৯৯৪), মিডিয়া ল'জ এন্ড রেগুলেশন ইন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের গণমাধ্যম আইন (১৯৯৬)।সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ তম সমাবর্তনে তাকে এবং আরেক ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনকে সন্মানসূচক ''ডক্টর অব লজ' ডিগ্রি দেওয়া হয়।এছাড়াও গাজীউল হক তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন৷ এগুলো- ১৯৭৭ সালে পান পাবনা থিয়েটার পুরস্কার৷ ১৯৭৯ সালে বগুড়া জিলা স্কুলের ১৫০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'বন্ধন'-এর পক্ষ থেকে ভাষাসৈনিক গাজীউল হককে ক্রেষ্ট উপহার দেওয়া হয়৷ ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি 'সড়ক'-এর পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধাঘ্য জানানো হয়৷ ১৯৮৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি 'কমিটি ফর ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ- নিউইর্য়ক' তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায়৷ ১৯৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলনে অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য 'বাংলাদেশ জাতীয় ব্যক্তিত্ব গবেষণা কেন্দ্র' তাঁকে রাষ্ট্রভাষা পুরস্কার পদক ও সম্মান স্মারক প্রদান করে৷ ১৯৯৭ সালে অন্নদা শংকর রায় কলকাতার পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করে৷ ১৯৯৭ সালে বছর 'বগুড়া প্রেস ক্লাব' ভাষাসৈনিকদের সংবর্ধনা দেয়৷ তাঁকেও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়৷ ১৯৯৭ সালে 'চট্টগ্রাম ইয়ুথ কয়ার' ( বইমেলা ) থেকে ৭ মার্চ তিনি ভাষাসৈনিক পদক পান৷ ১৯৯৭ সালে বগুড়ার ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাঁকে অর্পণ নামে একটি ক্রেষ্ট উপহার দেয়৷ ১৯৯৯ সালের ২৬ নভেম্বর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে জীবনব্যাপী নিষ্ঠা ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমী থেকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ অর্জন করেন৷ তিনি সিপাপ জাতীয় স্বর্ণপদক পান৷ ১৯৯৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি 'আমরা সূর্যমুখী'র পক্ষ থেকে তাঁর ৭১তম জন্মদিনে নাগরিক সম্মাননা দেওয়া হয়৷ 'কারক নাট্য সম্প্রদায়'-এর ১২ বছর পূর্তিতেও তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷ ২০০০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে গৌরবময় ভূমিকার জন্য সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট তাঁকে সকৃতজ্ঞ অভিনন্দন জানায়৷ এছাড়া ২০০০ সালে ভাষা আন্দোলনের পঞ্চাশ বৎসর পূর্তি উপলক্ষে সিলেট ভাষাসৈনিক সংবর্ধনা পরিষদ তাঁকে ভাষাসৈনিক সংবর্ধনা দেয়৷ এবছরই তিনি বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন এর উপদেষ্টা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা স্মারক পান৷ ১২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদও তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে৷ ভাষা আন্দোলনের স্থপতি সংগঠন তমদ্দুন মজলিস-এর পক্ষ থেকে মাতৃভাষা পদক পান৷ 'দি ইনস্টিটিউট অব চার্টাড এ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ' তাঁকে ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি স্বরূপ ক্রেষ্ট উপহার দেয়৷ ২০০০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ অবদানের জন্য 'আমরা সূর্যমুখী'র পক্ষ থেকে তাঁকে ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে নাগরিক সম্মাননা দেয়৷ 'মাতৃভাষা সৈনিক পরিষদ'এর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা প্রদান করা হয়৷ ২০০০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' তাঁকে 'একুশে পদক' পুরস্কারে ভূষিত করেন৷ ২০০০ সালের ১০ জুলাই পান 'বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন' পুরস্কার ৷ ২০০১ সালে ফেনী সমিতির পক্ষ থেকে তাঁকে 'ফেনীর কৃতি সন্তান' হিসেবে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷ ২০০১ সালেই একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির পক্ষ থেকে 'জাহানারা ইমাম পদক' পান৷ ২০০২ সালে 'সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট' 'ভাষা আন্দোলনের-সুবর্ণ জয়ন্তী' উপলক্ষে তাঁকে একটি ক্রেষ্ট উপহার দেয়৷ এ বছর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে৷ ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে 'বঙ্গবন্ধু পদক' পান৷ ২০০৪ সালে 'বাংলাদেশ জাতীয় ব্যক্তিত্ব গবেষণা কেন্দ্র'-এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে 'বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন-২০০৪'৷ ২০০৪ সালে পান 'শের-ই-বাংলা জাতীয় পুরস্কার' ৷ ২০০৫ সালে শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য 'মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার' পান৷ ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশন-এর ৭ম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তাঁকে ক্রেষ্ট উপহার দেয়৷ আমাদের দেশের এবং জনগনের অকৃত্তিম বন্ধু, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম এ প্রাণপুরুষকে একুশে পদক দিয়ে সরকার তাঁর ঋণ শোধের কিছুটা চেষ্টা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়ে তাঁর প্রতি যথার্থ সম্মান দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে এবং ভাষা আন্দোলনের সব সৈনিককে এরকম সম্মান জানালে আমরা খুশি হবো। উনার প্রতি রইলো অনেক অনেক শ্রদ্ধা...রইলো অনেক ভালবাসা...এবং কখোনো ভুলে যাব না এমন ওয়াদা।যতদিন বাংলার মাটিতে স্বাধীনতাপ্রেমি শেষ ব্যাক্তিটি রইবে ততদিন আমরা তোমাদের ভুলব না...

Thursday, July 2, 2009

অনলাইন পত্রিকা 'নোয়াখালী ওয়েব'র ৫ম বর্ষে পদার্পন

৫ম বর্ষে পদার্পন করল অনলাইন পত্রিকা নোয়াখালী ওয়েব। বৃহত্তর নোয়াখালীর স্থানীয় ও দেশ বিদেশে এ অঞ্চলের কমিউনিটির মানুষদের তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৫ সালের ১ জুলাই পত্রিকাটি তাদের প্রকাশনা শুরু করেছিল। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত এ্যালাক্সা র্যাংকিং অনুসারে নোয়াখালী ওয়েব বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন পত্রিকা। আঞ্চলিক ও কমিউনিটির খবরের পাশাপাশি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক খবরও গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করায় পত্রিকাটি ইতোমধ্যে সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও সফলভাবে চার বছর পূর্ণ করতে পারার জন্য পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক এর পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

নোয়াখালী ওয়েব'র ঠিকানা : http://www.noakhaliweb.com.bd/


এছাড়া ৫ম বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে ফেইসবুকে ও ইউটিউব এ নোয়াখালী ওয়েবের ঠিকানা চালু করা হয়েছে যেখানে পাঠকরা অতি সহজে তাদের মতামতসহ ভিডিও শেয়ারিং করতে পারবেন। ঠিকানাগুলো হল :


www.facebook.com/noakhaliweb
www.youtube.com/noakhaliweb


সাম্প্রতিক দৈনিক পত্রিকায় নোয়াখালী ওয়েব এর খবর

Monday, June 8, 2009

চার বছর পূর্ণ করল অনলাইন পত্রিকা 'নোয়াখালী ওয়েব'

বৃহত্তর নোয়াখালীর স্থানীয় ও দেশ বিদেশে এ অঞ্চলের কমিউনিটির মানুষদের তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৫ সালের জুন মাসে চালু হওয়া অনলাইন পত্রিকা 'নোয়াখালী ওয়েব' তাদের চতুর্থ বর্ষ পূর্ণ করল। বর্তমানে নোয়াখালী ওয়েব আঞ্চলিক ও কমিউনিটির খবরের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবরও গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করছে ফলে অনলাইন পত্রিকাটি ইতোমধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। নতুন বছরে পত্রিকাটির ব্যাপক আধুনিকায়ন হবে বলে জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তা ও সম্পাদক খালেদ সাইফুল্যাহ। পত্রিকাটির মান উন্নয়নে বৃহত্তর নোয়াখালীর সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করা হয়েছে। এর ওয়েব ঠিকানা http://www.noakhaliweb.com.bd/
মতামত জানাতে হ্যালো : ০১৯১৬৫৫৩৩৬৬, ০১৬১৬৫৫৩৩৬৬, ইমেইল : editor@noakhaliweb.com.bd


সাম্প্রতিক খবর :

দৈনিক প্রথম আলো (০৮ জুন ২০০৯)
http://www.prothom-alo.com/mcat.news.details.php?nid=MTU5NDAz&mid=MTE=

দৈনিক ইত্তেফাক (০২ জুন ২০০৯)
http://www.ittefaq.com/content/2009/06/02/news0060.htm

Sunday, October 5, 2008

নোয়াখালীর এক অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু



বৃহত্তর নোয়াখালীর মুক্তিযুদ্ধের এক অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবউদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু একাত্তরের ৬ সেপ্টেম্বর হানাদার পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নির্মম ভাবে নিহত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন স্বাধীনতাপূর্ব নোয়াখালীর গৌরবময় ক্রীড়া জগতের অন্যতম সংগঠক। এক সময় বৃহত্তর নোয়াখালীতে কচি, ছালু ও ভুলু এই তিন ভাইয়ের নাম ফুটবল সহ ক্রীড়াঙ্গনে ছিলো সুপরিচিত। তাঁদের ফুটবল দলের নাম ছিল এস্কেন্দার ব্রাদার্স। তাঁর পিতা মরহুম সেকান্দার মিয়া ছিলেন নোয়াখালীর স্বনামধন্য উকিল, জেলা উকিল বারের সভাপতি ও বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। শহীদ ভুলুর বড় ভাই মরহুম সহিদ উদ্দিন এস্কেন্দার কচি মিয়া ছিলেন অসহযোগ আন্দোলনের সময় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও নোয়াখালী পৌর সভার সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক এম,এন,এ ও এম,পি।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নোয়াখালী টাউন হল ছিলো মুক্তিযুদ্ধের কন্ট্রোল রুম। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে এখান থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রন করা হতো। শহীদ সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার দায়িত্ব পেয়ে টাউন হলেই তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন। এপ্রিলের শেষে পাক হানাদার বাহিনী এ শহর দখল করলে মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন দিকে মুক্তাঞ্চলে চলে যায়। তখন শহীদ ভুলু মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে শহরের পূর্বাঞ্চলে কাদিরপুরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি গড়ে তুলেন। তিনি ২ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর এটিএম হায়দারের অধীনে ছিলেন। সে সময় কাদিরপুরে তাঁদের পৈত্রিক বাড়ির কাছে ডা:রজনী কুমার দাসের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন সভা অনুষ্ঠিত হতো। উত্তর কাদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম ঘাঁটি । ৫ সেপ্টেম্বর সেই ঘাঁটির উপর দিয়ে একটি পাকিস্তানী ফাইটার বিমান খুব নীচু হয়ে উড়ে যায়। সে সময় মুক্তিযোদ্ধারা বিমান লক্ষ করে মেশিন গান থেকে গুলি ছুঁড়ে। এদিকে স্থানীয় রাজাকাররা গোপনে মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটির সঠিক খবরাখবর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে জানায়। আগরতলার এক তরুণ নবীন ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নোয়াখালীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন। তাঁর নাম ছিলো অমল নাগ। তিনি ক্যাপ্টেন নাগ বলে সমধিক পরিচিত ছিলেন। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে পার্শবর্তী বসুর হাটে মুক্তিযোদ্ধাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শহীদ ভুলু ও ক্যপ্টেন নাগ অন্য সহযোদ্ধাদের সাথে গভীর রাতে কাদিরপুর ক্যাম্পে ফিরে আসেন। সেই ক্যম্পের পাশে খালের মধ্যে নৌকা বেঁধে তাঁরা নৌকার মধ্যেই ঘুমিয়ে ছিলেন। ৬ সেপ্টেম্বর খুব প্রত্যুশে বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুলের পাক বাহিনীর ক্যাম্প থেকে ছয়টি নৌকা বোঝাই এক প্লাটুন পাকিস্তানী সৈন্য অতর্কিতে এসে সমগ্র এলাকা ঘিরে ফেলে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা হতচকিত হয়ে পড়েন। সহযোদ্ধারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারলেও সে সময় শহীদ ভুলু ও ক্যাপ্টেন নাগ গভীর ঘুমের মধ্যে ছিলেন। ত্বরিৎ বেগে হানাদার পাক সৈন্যরা তাঁদের নৌকা ঘিরে ফেলে। ঘুম থেকে জেগে উঠেই তাঁরা পাক সৈন্যদের সঙ্গে প্রতিরোধ যুদ্ধে লিপ্ত হন। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। পাক সৈন্যদের একটি গুলি সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলুর বাম বাহুতে এসে লাগলে তিনি মারাত্মক আহত হন। আহত অবস্থায় তিনি ও ক্যাপ্টেন নাগ পাক সৈন্যদের হাতে ধরা পড়ে যান। হানাদাররা তাঁদেরকে পার্শবর্তী স্কুলের বারান্দায় এনে হাত পিছমোড়া করে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। পাক সেনারা বারবার জানতে চায়, কে সাহাব উদ্দিন এস্কেন্দার ভুলু। তখন সেখানে উপস্থিত দুই ঘৃন্য রাজাকার কাজী অবুবকর সিদ্দিক ও কাজী মতিউর রহমান শহীদ ভুলুকে দেখিয়ে দেয়। তখন তারা উভয়কে বেগমগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু রাজাকাররা তাঁদের দুজনকে এখানেই হত্যা করতে পিড়াপিড়ি করে। এ নিয়ে রাজাকার ও হানাদার বহিনীর অফিসারের সাথে উত্তপ্ত বাক্যও বিনিময় হয়। তখন শহীদ ভুলু বার বার জয় বাংলা বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পাক সৈন্যরা বেয়নেট দিয়ে তাঁর কণ্ঠনালী কেটে ফেলে। এরপর তাঁকে পিছন দিক থেকে পরপর তিনটি গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত হতে হায়নারা তাঁকে বেয়োনেট দিয়ে বার বার খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করে। সে অবস্থায় তাঁর লাশ সেখানে পড়ে থাকে। শহীদ ভুলুর লাশ সেখানে ফেলে রেখেই পাক বাহিনীরা ক্যাপ্টেন নাগকে নিয়ে বেগমগঞ্জ ক্যাম্পে ফিরে যায়। ক্যাম্পে ক্যাপ্টেন নাগের উপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। দেশ স্বাধীন হলে অর্ধমৃত অবস্থায় তিনি মুক্তি পান।

হানাদার বহিনীরা কাদির পুর ছেড়ে চলে গেলে মুক্তি বাহিনীরা এসে শহীদ ভুলুর লাশ উদ্ধার করে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁর বাড়িতে এনে তাঁর বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করে। এর কয়দিন পর সেনবাগে রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের এক যুদ্ধে কজন রাজাকার সহ শহীদ ভুলুর হত্যার সহযোগি দুই রাজাকার কাজী আবু বকর সিদ্দিক ও কাজী মতিউর রহমান মারা পড়ে।

সাহাব উদ্দিন ভুলু শহীদ হওয়ার সময় তাঁর তিন ছেলে ছিলো একেবারেই শিশু। তখন বড় ছেলে জুয়েল চার বছর, মেঝো ছেলে সোহেল আড়াই বছর ও ছোট ছেলে দীপেলের বয়স ছিলো মাত্র ছয়মাস। তাদের মাইজদী শহরের লক্ষীণারায়ন পুরের বাড়িটি ছিলো রাজনীতির নানান স্মৃতিতে ঘেরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানী, সোহরাওয়ার্দী, পাকিস্তানের বিরোদীদলের নেতা আজম খাঁন প্রমুখ দেশ বরেণ্য নেতাদের পদচারনায় এলাকাটি ছিলো সদা মুখরিত। সে স্মৃতিময় বাড়িটিও পাক হানাদারেরা পুড়িয়ে দেয়। সেই থেকে নানান ঘাত প্রতিঘাতে আত্মীয়স্বজন পাড়াপড়শীদের সহযোগীতায় তারা আজ মানুষ হয়েছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু নোয়াখালীতে এসে শহীদ ভুলুর বৃদ্ধা মা আজমুদা খাতুনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, আপনার এক ছেলে যুদ্ধে হারিয়ে গেলেও আমিতো আপনার আর এক ছেলে আছি। পঁচাত্তর পরবর্তীতে এই পরিবারের উপর সরকারি ভাবে নেমে এসেছিলো বঞ্চনা আর অবহেলা। সবচেয়ে আশ্চর্য ও গ্লানিকর দিক হলো, যে দুই রাজাকার শহীদ ভুলকে হত্যার সহযোগীতা করেছিলো কাজী আবু বকর সিদ্দিক ও কাজী মতিউর রহমান দুজনেই একসাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে অত্যন্ত ঘৃনিত ভাবে মৃত্যু বরণ করলেও দীর্ঘদিন থেকে শহীদ পরিবার হিসাবে তাদের পোষ্যরা ভাতা পেয়ে আসছিলো। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র তাদের নামে এ বরাদ্ধ এতো দিন দিয়ে আসছিলো বলে শহীদ ভুলু পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

নোয়াখালীর ক্রীড়া জগতের এক সময়ের এ অনন্য সংগঠকের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ মুক্তিযুদ্ধে তাঁর মহান অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলাবাসি এ এলাকার একমাত্র ষ্টেডিয়ামের নাম করণ করে,শহীদ ভুলু ষ্টেডিয়াম। এটি এখন আন্তর্জাতিক মানের ষ্টেডিয়াম হিসাবে গড়ে উঠছে।

নোয়াখালীবাসি এই অকুতভয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।


লেখক : মাহ্‌মুদুল হক ফয়েজ
সহযোগী সম্পাদক, নোয়াখাখালী ওয়েব

অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অবারিত দ্বার নোয়াখালী

অতি প্রাচীন ইতিহাস সম্বৃদ্ধ নোয়াখালী জেলা। ১৯২১ থেকে ২০০৮ সাল। দীর্ঘ ১৮৭ বছর ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় এ জেলার সন্তানদের বীরোচিত ত্যাগ জাতিকে করেছে মহিমান্বিত, জেলাবাসী হয়েছে গর্বিত। প্রকৃতির অপার রূপ আর সম্পদ সম্বৃদ্ধ এ জেলার ফসলের ভান্ডার উদ্বৃত্ব। কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, পশু, মৎস্য সম্পদ, তাঁত বস্ত্র, লবন চাষ (বর্তমানে বিলুপ্ত) রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ইতিহাসও সুদীর্ঘ কালের। কালের পরিক্রমায় প্রকৃতির খেয়ালে বহুবার নোয়াখালীর উপকূল ভেঙ্গেছে আবার গড়েছে। ভাঙ্গা গড়ার এ চোরাবালির মাঝে মানুষ নিঃস্বও হয়েছে আবার সম্বৃদ্ধ হয়েছে।

নোয়াখালীর ৭০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কৃষিজীবি। প্রকৃতিকে নির্ভর করে গ্রামের বনেদীগৃহস্থ পরিবার ছিল স্বয়ম্ভর। তবে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সুযোগের অভাবে কৃষিতে এসেছে সংকট। সে সংকট অব্যাহত। গত দু'দশক ধরে নতুন সর্বনাশ জলাবদ্ধতা জেলার কৃষি ব্যবস্থাকে কেবল ধ্বংস করেনি, বিরাণ করেছে গ্রামীন অর্থনীতিকে। বাড়িয়েছে বেকারত্ব। সম্পন্ন কৃষক ও কৃষি পরিবার হয়েছে সর্বশান্ত। পেশা বদল করে অনেকে কৃষি বিমুখ হওয়ায় কৃষিতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনবল সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার পরবর্তী সরকার ব্যবস্থার সকল পর্যায়ে নোয়াখালীর বিদগ্ধ সন্তানদের উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকলেও কৃষি নির্ভর জেলার কৃষিখাতে সংকট সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেনি। সাবেক ৬ উপজেলা এখন প্রশাসনিক প্রয়োজনে ৯ উপজেলায় রূপান্তরিত। তাতে মানুষের উন্নয়ন হবে এ আশাবাদ করা যেতে পারে। কিন্তু নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও হাতিয়া উপজেলা ছাড়া বাকী ৭ উপজেলা বর্ষা মৌসুম ও মৌসুম পরবর্তী ২ মাস জলাবদ্ধ থাকে কৃষি জমি। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা কৃষির যে বিপর্যয় এনেছে তা থেকে উত্তোরনের কোন সঠিক পরিকল্পনা নেই। রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের আগুনের লেলিহান শিখার মত দ্রব্য মূল্য যখন মানুষকে সর্বাঙ্গে পুড়তে শুরু করেছে তখন আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার টনক নড়েছে। গত দু'দশকে কৃষি আর কৃষকের প্রতি যে অবহেলা তার প্রতিশোধ নিচ্ছে দ্রব্য মূল্য। সুজলা, সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশের কৃষিকে কার স্বার্থে বিদেশী বাজারে পরিণত করে এর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করেছে তার মূল্যয়ান করা সময়ের দাবী।

নোয়াখালীর কৃষির বিশাল সম্ভাবনা হলেও প্রায় ৬৫ হাজার একর জমি এখনো সারা বছর পতিত থাকে। একফসলী জমির পরিমাণ ৪৭ হাজার একর। কৃষি জমির বিশাল ভান্ডার উপকূল জুড়ে। সেখানে সীমিত সুযোগ নিশ্চিত হলে ৮০হাজার একর জমিকে ত্রি-ফসলী করা সম্ভব। অথব জলাবদ্ধতা, সেচের অভাব, সার সংকট, কীটনাশক সংকট ছাড়াও ভেজাল বীজ, সার, ঔষধ কৃষি এবং কৃষকের অস্তিত্বকে হুমকিতে ফেলেছে।
এ জেলায় মৌসুমী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশী। পরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা সেভাবে গড়ে উঠেনি। গত তিন দশকে উন্নয়নের জোয়ারে পুল, কালভার্ট, রাস্তা অবকাঠামতে হয়নি তা বলা যাবে না, তবে মূল বিষয় খাল সংস্কার, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধার বিষয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবী পুরোপুরি উপেতি হয়েছে। মেঘনা আর ডাকাতিয়া নদীর সাথে সংযোগে খালগুলো মরে যাচ্ছে, বেদখল হয়েছে প্রভাবশালীদের দ্বারা অথচ প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্টরা এগুলোকে আমলে নেয়নি। বরং কতিপয় ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার একর অনাবাদি জমি পতিত পড়ে রয়েছে। সেচ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর ৭০ হাজার একর জমিতে ফসল বুনন হয় না। হাতিয়া ভাঙছে গত তিন দশকের বেশী সময় ধরে, দেখার কেউ নেই। কতিপয় রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অসাধু সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও প্রভাবশালীদের মদদে ৫০ হাজার হেক্টরের বনাঞ্চল উজাড় হয়েছে। ঝড় জলোচ্ছাসে উপকূলের কতিপয় অঞ্চলে কয়েক লাখ মানুষ এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। তাদের থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। গরু, মহিষ, ভেড়া তথা পশু সম্পদ সম্বৃদ্ধ উপকূলে এখন পশুর অভাব। কথিত ভূমিহীন ও মৎস্য চাষীরা খাস জমি দখল করে ফেলছে। অথচ পশুদের জন্য চারণভূমি নেই। সরকারের পরিকল্পিত উপকূল উন্নয়নের ফাইলে উই পোকা ধরেছে। এ কারণে উপকূলের কথিত উন্নয়ন এখন শীতাতপ হলঘরে, সেমিনার, টকশোতে সীমাবদ্ধ।
উপকূলের কৃষক নতুন ফসলে উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছে। গত ১০ বছরে উপকূলীয় এলাকায় তরমুজ, ঢেঁড়স, সয়াবিন, বাদাম, ভূট্টা ও গমের চাষ হচ্ছে। সবজি চাষে আগ্রহী কৃষক আগাম শীতের সবজি বাজারে নিয়ে আসছে। অথচ তাদের জন্য প্রযুক্তি, বীজ, সার, প্রয়োজনীয় তথ্য, সেচ ব্যবস্থা ইত্যাদি সুযোগ খুবই সীমিত। সংশ্লিষ্ট বিভাগে লোকবল সংকটও রয়েছে। প্রান্তিক চাষীর জমি নেই। অথচ তার উদ্যোগ ও মেধা আছে। তা কাজে লাগানোর নিশ্চয়তা চায়। চায় উৎপাদিত পণ্যের মালিকানা ও খাস ভূমি।

সরকার বলছে, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে। অথচ এর জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট পায় না কৃষক। ব্যক্তি মালিকানা ও খাস ভূমির মালিকানা সামন্ত প্রভু ও প্রভাবশালীদের। তারা চাষ করে না। এ জন্য জমি চাষে বাধ্য করার আইন প্রয়োজন। এ জেলায় খামার ভিত্তিক গবাদি পশু, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগী, মৌসুমী ফল ও সবজি চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। তবে এর উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সুবিধা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে পাওয়া যায় না। মৎস্য চাষে উপকূলীয় অঞ্চলে আরেকটি নতুন বিপ্লব ঘটেছে। সরকারী খাস জমি ও ব্যক্তিগত জমিতে বৈধ অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা মৎস্য প্রকল্প থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ টন মাছ বাজারে আসছে। এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে আধুনিক হ্যাচারী, দুগ্ধ খামার, ফিড প্রসেসিং কারখানা সবই হচ্ছে পরিকল্পনাহীন ভাবে। ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি ফিশ প্রসেসিং কারখানা গড়ে উঠেছে, যা শুরুতেই বন্ধ হয়ে গেছে। এই ধরনের প্রকল্পগুলোকে পরিকল্পিত ভাবে এবং সুচিন্তিত ভাবে বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সুচিন্তা প্রসূত ফোর কাউ, গুটি ইউরিয়া, জৈব সার, বায়োগ্যাস প্রকল্প ও ক্ষুদ্র সমবায় ভিত্তিক প্রকল্পগুলো গ্রামীন জনপদের কৃষকের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। সেনাবাহিনীর কারিগরী সহযোগিতায় এই ধরনের প্রকল্প বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

নোয়াখালীর পর্যটন শিল্প সম্ভাবনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো একটি উদ্যোগ হতে পারে। বিদ্যুৎ, পানীয় জল অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে নিঝুম দ্বীপ, চরকার্ক-সন্দ্বীপ চ্যানেল, কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর সহ বিশাল অঞ্চল জুড়ে পৃথক পর্যটন শিল্পের বিকাশ সম্ভব। এছাড়া ৪৩ কিলোমিটার লম্বা ঐতিহাসিক নোয়াখালী খালটি হতে পারে পর্যটন শিল্প বিকাশের আরেকটি অন্যতম উপাদান। জেলার উপকূলের ১৫শ বর্গকিলোমিটার জুড়ে গড়ে তুলতে হবে পরিকল্পিত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। পরিবেশের জন্য যা হবে খুবই প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রকৃতির এ দেয়াল গড়ে তোলার বিকল্প নেই। একই সাথে পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং জীব বৈচিত্রকে রক্ষা করার জন্য বনায়ন, বিশাল বিশাল জলাশয় খনন খুবই জরুরী, যা পাল্টে দেবে এ জনপদের মানুষের জীবন যাত্রাকে।
নোয়াখালীতে ইতিমধ্যে বেশকিছু উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নার্সিং ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট, মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাট্স), পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার অন্যতম। তবে জনসংখ্যার বিচারে এবং আয়তনের বিশালতায় সেই হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা তেমন উন্নতি ঘটেনি। মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে প্রতিবছর বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী শি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ থেকে উত্তোরনের প্রয়োজন, প্রয়োজন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি নোয়াখালীতে মেডিকেল কলেজ, ইপিজেড, নৌ বন্দর, সুবর্ণচর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ ও নির্মাণের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে; যা হবে স্থল ও নৌ পথে বহুমুখী বাণিজ্য প্রসারের একটি বিশাল উদ্যোগ।

নোয়াখালীর জেলার সন্তানরা যারা উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন, তারা বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দেন-দরবার করে এ উদ্যোগ গুলোর সফল বাস্তবায়ন করবেন- এ প্রত্যাশা জেলাবাসী করে। অবশ্যই বিষয়গুলো করুণা নয়, নোয়াখালীর মানুষ ইতিহাসে অনেক পংকিল পথে সাহসী ভূমিকা নিয়ে মানুষের পক্ষে দেশের পক্ষে দাড়িয়েছে, হারিয়েছে অনেক কিছু, সে তুলনায় পায়নি কিছুই। যে উদ্যোগ গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে তা হবে দেশের জন্য, দেশের অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। এগুলো বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থেই করতে হবে।

লেখক : বিজন সেন
নোয়াখালী প্রতিনিধি, চ্যানেল আই ও দৈনিক ভোরের কাগজ
নিয়মিত লেখক, নোয়াখালী ওয়েব